সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 1
স্বর্ণমুদ্রা : 187
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-01
View user profile

মিছেমিছি মন দিছি Empty মিছেমিছি মন দিছি

Tue Jun 01, 2021 8:12 pm
ভোরের আলোর মত তীব্র গতিতে মাত্র জীবনের সূচনা লগ্নে ছুটতে ছিলাম। প্রাইমারির গন্ডি পেরিয়ে হাইস্কুলের বারান্দায় পা রেখেছি বছর খানেক হলো। ছাত্র হিসাবে একদম পাকা ছিলাম না তবে একেবারে খারাপ ছাত্র ছিলাম এমনটাও না।মোটামুটি শিক্ষকদের নজরে আসার মত ছিলাম। ক্লাস সেভেনের একটা ছেলের মনে হরেকরকমের রঙিন স্বপ্ন হলি খেলে সেটা শৈশবের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। তখন জীবনটা মাত্র শুরু হতে যাচ্ছে আস্তে আস্তে গুছিয়ে রাখতে চেষ্টা করছি নিজেকে বুঝতে চেষ্টা করছি। তখনও চুলগুলো দাঁড় করাতে শিখিনি দেখতেও বেশ ছোটখাটো ছিলাম। বেশ হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতাম।স্কুল ছেড়ে এসে বিকেলবেলা বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলতাম।সেই সোনালী শৈশবের কথা আমার মতো সবার খুব মনে পড়ে এতে কোন সন্দেহ নেই।শৈশবের কথা ভাবতেই কেমন আনন্দ লাগে কতটা রঙিন

সকাল পার করে আসছি। এখন অনেকটা বড় হয়ে জেনেছি ভালোবাসার জন্য কোন কারণ লাগে না অকারণেও মানুষ ভালোবাসে। কিন্তু তখন বুঝতাম না কেন ভালোবাসে? তখনও আমি ছোট অকারণে একটা বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে আমার ভালো লাগতে শুরু করে। যতটা সময় আশেপাশে থাকতে পারতাম পুরো সময়টা মনের মধ্যে শুধু ভালো লাগা কাজ করতো।  

যখন ক্লাস সেভেনের শেষের দিকে তখন আমি চুল দাঁড় করাতে শুরু করি অবশ্য বারবার আয়নায় দেখতাম নিজেকে। তখন জানতাম না কারো প্রেমে পড়লে এমনটা সবার হয়। স্টাইল, স্মার্টনেস, সম্মানবোধ,নৈতিকতা শব্দ গুলোর সাথে মাত্র পরিচিত হতে শুরু করি। তখন ছোটখাটো একটা মোবাইল ফোন ছিল প্রতিরাতে তিন-চারটা সিনেমা দেখা হতো সিনেমা প্রিয় ছিলাম এটা বলার অপেক্ষা থাকেনা। বিবেকবুদ্ধি মাত্র সংক্রমিত হতে শুরু করে। জীবনটা সিনেমার মতো ভাবতে থাকি আর নিজেকে সিনেমার হিরো ভাবার কথা অপেক্ষা রাখে না। তাই নিজের স্মার্টনেস বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকি নিজের ভালো লাগার মানুষটাকে নিজের প্রতি দূর্ভল করা বুঝতাম না তখন তার আমার প্রতি ভালো লাগা তৈরি করার জন্য এসব করতাম বলা যায়।

মেয়েটার নাম ছিল নিপা আদর করে সবাই নিপু ডাকতো আমারও বেশ ভালোই লাগতো।আমার সহপাঠী ছিল তাই দেখার জন্য কোন বাহানা খুজতে হতো না ক্লাসে তাকে দেখতে কোন বাধা ছিল না।ছাত্রী হিসাবে বেশ পাকা সুন্দরী মেয়ে গুলো একটু বেশি ট্যালেন্ট হয় এখন বেশ বুঝতে পারি। সেও ব্যাতিক্রম ছিল না। সিনেমায় দেখেছিলাম ভালোবাসলে তাকে জানিয়ে দিতে হয় তাই সে বছরই তাকে জানানো হলো আমার ভালোবাসা খোলা চিঠিতে। গোলমাল হয়ে পুরো ক্লাসে সবাই জেনে যায়। আমার কোন লজ্জা লাগেনি ভালোবাসলে মানুষ বেহায়া হয়ে উঠে এতে কোন ভুল নেই। সবাই যখন জেনে গেলে সে টিচারকে  নালিশ দেয় আমাকে অবশ্য সে কিছু বলেনি বান্ধবীদের চাপে নালিশ করতে বাধ্য হয়েছিল এমনটাই শুনেছিলাম।                                            

ছোট ছিলাম তো টিচারও তেমনটা সিরিয়াসলি নেয়নি বিষয়টা তবে আমাকে একদম খালাশ দিয়েছিল এমনটাও নয়।বেতের লাঠি দিয়ে চার বেত আমার হাতে পড়েছিল। আসলে মন থেকে আমার ভালোবাসা অনেকটা মজবুত  পিউর ছিল - পবিত্র ভালোবাসা। তাই সেদিন বেত দেওয়ার পরও আমি হেসেছিলাম। অনেকে হয়তো ভাবছেন গল্পটা কষ্ট দিয়ে শুধু হলেও শেষটা অনন্দময় হবে আসলে এই গল্পের শেষটা মোটেও সুখময় নয়।আমার গল্পটা একদম অন্য রকম পাহাড় সমান ভালোবাসতাম তাকে কখনো সুতো পরিমাণ ভালোবাসাও পায়নি। শুধু পেয়েছিলাম পাহাড় পরিমাণ অবহেলা আর অপমানের গ্লানি টেনে গেছি।

সেদিন ভেবেছিলাম হয়তো সবার ভয়ে নালিশ করে দিয়েছে প্রিয় মানুষটা। বড্ড প্রিয় হলেও তারকাছে কখনো প্রিয় হয়ে উঠা হয়নি। আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল দুটো মানুষ রাশেদ - দিপা খুনসুটি হাসিঠাট্টায় ভালোই সময় কেটে যেত।বিষয়টা সহপাঠীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা ছোটভাই-বড়ভাই অনেকেই জানতো।রাশেদ ছেলেটাকে পাগলা বলে খেপালেও আমার কাছে বেশ লাগতো। বন্ধু হিসাবে যেটুকু চাওয়া থাকতে পারে তারথেকে বেশি কিছু দেওয়ার চেষ্টা করতো। বেশির ভাগ সময় দিপু আর রাশেদের সাথে সময় কেটে যেত। নিপু যখন জানতো না তখন সহপাঠী হিসাবে কথা বললেও কোন বাধা ছিল না।অবহেলাটা শুরু হলো চিঠিটা পৌঁছানোর পর থেকে তখন থেকে সামনে দাঁড়ানোর সাহসটা হারিয়ে ফেলছি বুকের ভিতর ধকধক করা শুরু করতো নিপুর সামনে গেলে কিন্তু এমন কোন চেষ্টা নেই যেটা আমি করিনি সে মানুষটার প্রিয় হওয়ার জন্য আমি আজও প্রিয় হতে পারিনি।

জীবনের অনেকটা অংশ সে আমাকে শিখিয়ে গেছে সেজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। অবহেলা নিঃসন্দেহে বাস্তবিক অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়।সে বেশ ভালো একটা মানুষ একটু রাগী আমার বেশ ভালোই লাগতো রাগী স্বভাবটা।হাসতে শিখেছে, একটা হাসিতে যে কারো মন খুন করে দেওয়ার ক্ষমতা উপরওয়ালা তাকে দিয়েছে।আমাদের একটা স্বভার আছে বদঅভ্যেসও বলা যায়। কারো ভালো দিকটা না দেখেই দোষ গুলো সর্বপ্রথম খুঁজি।তাই আমি আগে থেকে প্রশংসা গুলো উল্লেখ না করে পারলাম না।যেহেতু নিতান্তই সে আমার জীবনে প্রিয় বলা প্রথম নারী।সে মানুষটার প্রিয় হয়ে উঠতে চাওয়া চার-বছরে আমি শতাধিক বার কটুকথা শুনেছি তার সমুখে। অধিকবার খুব বাজেভাবে অপমানিত হয়েছি, একাধিক বার আঁখি দিয়ে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছিলাম কিন্তু আজও তার প্রিয় হয়ে উঠতে পারিনি।    

সেবার আমার জেএসসি পরীক্ষা চলছিল কেউ ভাবতে পারে এমন কঠিন সময়ে পড়া রেখে লুকিয়ে প্রিয় মানুষটাকে একবার দেখে আসতে যাওয়ার কথা আমি গিয়েছিলাম নিপাকে দেখে আসতে জানা ছিল, না হয় পড়াও হবে না পরীক্ষাও ভালো হবে না। একবার সে বিষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল গিয়েছিলাম তাকে দেখতে হাসিমুখে কথাও বলেছি, আমি আবার কারো সাথে অভিমান করে থাকতে পারি না যদি সে আমার প্রিয়তার মধ্যে পড়ে ।এখনও মাঝে মধ্যে মনে হয় আমার ভালোবাসায় হয়তো কোথাও ঘাটতি ছিল।ভালোবেসেছিলাম সবকিছু উপেক্ষা করে সবচেয়ে বেশি।আমার দূর্ভাগ্য তার কখনো প্রিয় হয়ে উঠতে পারিনি।          

হাইস্কুল জীবনের শেষ চার-বছরে অযত্নে অবহেলায় আমার রঙিন স্বপ্নে উজ্জীবিত মনটা পাথরে পরিণত হয়েছে।এই চার বছরে একটা দিন বেশ চিৎকার করে জনসমুদ্রে অশ্রু জলাঞ্জলি দিয়েছিলাম, সেটি ভুলে যাওয়ার মত দিন ছিল না স্কুল জীবনের বিদায়ের দিন ছিল কখনো কেউ যে-দিন টা ভুলতে পারেনা। আমিও পারিনি ভুলতে, কখনো পারবোনা ভুলতে তাকে।


শাহরিয়ার ইমন

Shamim, Alamin, Subbroto, Babu seikh, Asraf, Atif, Onik and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum