সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
শুকতারা
শুকতারা
Posts : 68
স্বর্ণমুদ্রা : 343
মর্যাদা : 20
Join date : 2021-05-22
View user profile

প্রত্যাবর্তন Empty প্রত্যাবর্তন

Fri Jun 04, 2021 1:15 am
১|
একটি মেয়ে যখন একটি ছেলেকে পছন্দ করে তার নিজের অজান্তেই তার আচরণ শারীরিক অঙ্গভঙ্গি কিছু ইঙ্গিত প্রকাশ করে দেয়। এটা যে মেয়েটি শুধু ইচ্ছাকৃতভাবে করে তা নয়, অবচেতন মন থেকেও অনেক সময় ঘটে যায়।
আমি সেটি খুঁজতেই গুগলে ঘাটাঘাটি করতে বসলাম। 'সাইনস এ গার্ল লাইকস ইউ' লিখে গুগলে সার্চ দিতেই প্রায় শ'খানেক পোস্ট সামনে চলে এলো। আমি সবার উপরে পোস্টটিতে চাপ দিলাম। হেডিং এ লেখা রয়েছে 'টেন সাইনস শি লাইকস ইউ' আমি মহাইন্টারেস্ট নিয়ে পোস্টটির লিংকে ক্লিক করলাম। সাথে সাথে দশটি প্যারার ওয়েব পেজ আমার সামনে খুলে গেল। আমি খুব ধৈর্য্য নিয়ে, একে একে সবগুলো পয়েন্ট লক্ষ্য করলাম। কোন কোনটা আবার সন্তর্পনে নোটবুকে টুকে রাখলাম। তারপর আমার কলেজের ইংরেজি লিটারেচার এর ম্যামের আচরণ ও শারিরীক অঙ্গভঙ্গির সাথে মেলাতে শুরু করলাম।
যেটাই মেলাতে চেষ্টা করিনা কেন মনে হয়, এই মিলে যাচ্ছে। ভালো করে মিলিয়ে নেয়ার পরে যখন নিচে নেমে আসে, তখন আবার উপরে পয়েন্ট নিয়ে কনফিউজ হয়ে পড়ি। মনে হতে থাকে এ ধরনের কোনো আচরণ তার মধ্যে নেই। আমি সেটা নিজের অজান্তেই তৈরি করে নিচ্ছি।
একে একে সবগুলো পয়েন্ট যখন নোটবুকে টুকে মিলিয়ে ফেললাম, তখনই হঠাৎ করে মনে হলো আরে কোনটাই যে এবার আর ঠিক মনে হচ্ছে না। সবগুলো পয়েন্ট আমি গোঁজামিল দিয়ে মিলিয়েছি।
কিছুক্ষণ পর এবার মনে হল আরে না সবগুলোই মিলে যাচ্ছে। একচুয়ালি আমি যেন কনফিউশনের বেড়াজালে ভেসে বেরাচ্ছি।

অগত্যা ল্যাপটপ করে বন্ধ করে, নোটবুকটি টেবিলের উপর ছুড়ে মারলাম। আমার দ্বারা এসব গবেষণা হবে না। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত এই গবেষণার সর্বশেষ ফলাফল হল জিরো। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে পৌছালাম এসব পয়েন্টের কোনটাই তার মধ্যে নেই। আমি তার উপর ক্রাশ খেয়ে মরে থাকলেও, সে হয়তো আমাকে লক্ষই করেনি। বিছানায় শুয়ে আগডুম বাগডুম ভাবতে ভাবতে হঠাৎই মনে হল কেন আমি পয়েন্টগুলি লিসার সাথে মিলিয়ে দেখাছি না।
লিসা আমার ক্লাসমেট। আমরা একই সেকশানে পড়ি। ম্যাডামের উপর ক্রাশ খাওয়ার আগে লিসা ছিল আমার প্রথম ক্রাশ। কিন্তু পরে আমি ম্যাডামের উপর এতটাই অবসেসড হয়ে পড়ি, বেমালুম কথাই ভুলে যাই। মেয়েটা আমার সাথে একই ক্লাসে ক্লাস করে। আমার একই সার্কেলের সাথে চলাফেরা করে। আমার বন্ধুদের সাথেই গ্রুপ স্টাডি করে। অথচ আমার যেন ওকে আর কখনো সেভাবে খেয়াল করে ওঠা হয়নি।

যাইহোক যেই ভাবা সেই কাজ। আমি লাফ দিয়ে উঠে পুনরায় ল্যাপটপটি অন করলাম। আমার নোটখতাটি আবার হাতে নিলাম। একটি একটি করে ধরে ধরে পয়েন্টগুলি লিসার সাথে মেলানোর চেষ্টা করলাম।
আশ্চর্য! এবার যেন পয়েন্টগুলি একে একে মিলে যাচ্ছে। আর আমি আগের মতো কনফিউজডও না গজামিল দিয়েও মেলাতে হচ্ছে না।
এই যেমন আমরা সেদিন একই সাথে গ্রুপ স্টাডি করার সময় আমার হাতের সাথে তার হাত স্পর্শ হয়। আমি হাত সরিয়ে নিইনি তখন কারন আমিতো তার স্পর্শ পেয়ে রোমাঞ্চিত। সেদিন কিন্তু সেও তার হাত সরিয়ে নেয় নি। এখন তো মনে হচ্ছে সে নিজেও আমার স্পর্শ উপভোগ করেছে।
আরেকটি পয়েন্ট লক্ষ্য করতেই দেখলাম সেটিও হুবহু মিলে গেল। লিসা আমার সাথে কথা কম বললেও আমার ফ্রেন্ডজোন তার কাছে খুবই পরিচিত। তাদের সবার সাথে তার খুব খাতির। সে সবসময় আমার ফ্রেন্ড জোনের আশেপাশে থাকে। আমি লক্ষ্য করতাম আমার বন্ধু-বান্ধবের সাথে সে যেচে এসে কথা বললেও, আমার সাথে একটু রিজার্ভই থাকতো। এতদিন তো আমি সেটিকে নেতিবাচক হিসেবে জেনে এসেছি কিন্তু আজকের এই লিস্টতো এটিকে ইতিবাচক হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
এবার তৃতীয় আরো একটি পয়েন্ট মিলে গেল। আমরা যখনই পড়তে বসি লিসা আমার দিকে মুখ করে ঘুরে বসে। তার পা দুটি দিক আমার দিকে নির্দেশিত থাকে। তাছাড়া বেশিরভাগ সময়ই সে আমার আশে পাশেই বসে।
আমি এবার জন্য একটু হতবাক হয়ে পড়ি এতদিন ধরে এত কিছু ঘটে চলছে কিন্তু আমি ওর দিকে কোনো নজরই দেইনি। একদম দেইনি বললে ভুল হবে কিন্তু আমার মূল ইন্টারেস্ট ছিল ম্যামকে ঘিরে। লিসা যে ম্যাম এর চেয়ে কম সুন্দরী তাও নয় কিন্তু কেনো জানি আমার দৃষ্টি ঘুরে ফিরে ওই ম্যাচিওর মেয়েটির দিকে চলে যায়।
এসব ভাবতে ভাবতে নিচে আরেকটি পয়েন্ট আমার দৃষ্টি কাড়ে। মেয়েরা যখন কোন ছেলেকে পছন্দ করে, সে তখন তার প্রাইভেট স্পেসের গণ্ডি ভঙ্গ করে।
এই যেমন সেইদিন আমার সাথে দাঁড়িয়ে আমাদের কলেজের দুই সেকশনের ফুটবল খেলা দেখার সময় সে আমার এতটাই কাছাকাছি চলে আসে যে আমি তার নিঃশ্বাস আমার ঘাড়ের উপর অনুভব করি। তার নিঃশ্বাসের মিষ্টি গন্ধ আমার নাকে এসে ঠেকে।

ইউরেকা! তাহলে আমার এক্স ক্রাশ আমার নিজের অজান্তেই এখন আমাকে পছন্দ করতে শুরু করেছে। আশ্চর্য আর আমি শুধুমাত্র রোজি ম্যামের পিছনেই ঘুরে বেরিয়েছি। আমার পুরো মনোযোগ লিসার ওপর থেকে সরিয়ে ফেলেছি। সে কত কিছু করে যাচ্ছে আর আমি সেগুলি কিছুই খেয়াল করিনি। এক ধরনের অবহেলাই করে গেছি। অথচ সে তার মনের ভেতরে আমাকে একটা জায়গা দিয়ে রেখেছে। আর আমি এক মরীচিকার পেছনে ছুটে বেড়িয়েছি। আমি মুহুর্তেই ফোনটি হাতে তুলে নিলাম। একটিভ চ্যাট লিস্টেও লিসার নামটি একদম শুরুতেই রয়েছে। এই সবকিছুই একটি জিনিস ইঙ্গিত করে। আমি আর কিছু না ভেবে লিসাকে একটা টেক্সট করলাম, হাই। কি করছো?

(চলবে)

Ahmed Chanchal, Tanjib arif, Sk nadim, Sofikul alom, Nera akter, Israyeel hossen, RabbY khan and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
শুকতারা
শুকতারা
Posts : 68
স্বর্ণমুদ্রা : 343
মর্যাদা : 20
Join date : 2021-05-22
View user profile

প্রত্যাবর্তন Empty Re: প্রত্যাবর্তন

Fri Jun 04, 2021 1:17 am
২|

আমার টেক্সটটি কিন্তু সিন করেনি লিসা। আমি টেক্সট পাঠিয়েছি তখন রাত বাজে ১১ টা আর এখন আড়াইটা প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে আমি বিছানায় ছটফট করছি। আমার অন্তরাত্মা যেন হাঁপিয়ে উঠছে।
লিসা কিন্তু একটিভ পুরোটা সময়। আমি ভাবছি সেকি নোটিফিকেশন দেখেছে আমার মেসেজের। তারপর ইচ্ছে করেই ইগনোর করছে। নাকি ও মেসেঞ্জারে ঢুকেনি। ফেইসবুক টাইমলাইনে পড়ে আছে। নাকি সে ম্যাসেঞ্জারে বসেই না অথবা কম বসে। তাছাড়া আমিও তো অনেকদিন বাদে ওকে নক দিয়েছি। তাই না। আমি ভেবেই চলছি আমার ভাবার যেন আর শেষ নেই।

একটা পর্যায় আমি আর নিতে পারছিলাম না। আমার যেন দমটা আটকে আসছিল। বুক ভারী হয়ে আসছিল।
শেষমেষ আমি একটু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলাম। আমি এখনই ফোনের ডাটা বন্ধ করে দিয়ে শুয়ে পড়বো। ইচ্ছে করেই আমার টেক্সট সিন করছে না লিসা। আমাকে সাজা দিচ্ছে এক ধরনের। আর মজা নিচ্ছে। শয়তান মেয়ে একটা। আমি যদি কালকে ওর সাথে কোন ধরনের কথা বলেছি, তবে আমার নাম চেঞ্জ করে ফেলব।

এত কিছুর পরেও খুব ইচ্ছে হচ্ছিল ওকে আর একটা টেক্সট করি। হাত কয়েকবার চলেও গিয়েছিল। কিন্তু পারলাম না। নিজের ইগোর কাছে হেরে গেলাম। রাগে-দুঃখে ফোনের ওয়াইফাই আর ডাটা দুটোই বন্ধ করে রাখলাম। আজ রাতে আর কোন কথা নয়।

বেশ কিছুক্ষন বিছানায় এপাশ ওপাশ করলাম। তারপর আমার হাতটি নিজের অনিচ্ছায় আবার ফোনটির কাছে চলে গেল। আমি ফোনের দিকে তাকালাম ২ টা ৪৩ বাজে। মাত্র তিন মিনিট আগেই আমি ওয়াইফাই ও ডাটা বন্ধ করেছি। উফ!

কিভাবে কিভাবে যেন এবার আমার হাতটি ফোনটি আবার আনলক করল। আমি পুনরায় ওয়াইফাই ও ডাটা অন করলাম। আমার বুকটা যেন ধক ধক করছিল। এখনই টিং করে একটা মেসেজ চলে আসবে! তারপর ভাবলাম মাত্র কয়েক মিনিট হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চয়ই রিপ্লাই দিবে না সে।
সত্যিই কোন মেসেজ আসেনি। মেসেঞ্জার অন করলাম। এবার সে যে অফলাইনে চলে গেছে!

আমার মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা হল এবার। এতক্ষণ তো তাও মনে হচ্ছিল আমার সাথে লিসা আছে। আমি ইচ্ছে করলেই টেক্সট দিতে পারব। সে দেই আর না দেই। কিন্তু এখন যে সেটারও জো নেই।
কিছুতেই কিছু আর ভাল্লাগছেনা। সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করছে। হঠাৎ করেই মেসেঞ্জারে তাকিয়ে দেখি, সিনথিয়া অনলাইনে।

সিনথিয়া আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে হটি সেক্সি মেয়ে। আর ওর সব থেকে বড় গুণ হলো কাউকে নিরাশ করে না সে। যে কেউ নক দিলে রেসপন্স করে, কোন ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই।

আমি আর আগ পিছু ভাবলাম না। ওকে একটা ওয়েভ দিয়ে দিলাম। তারপর অধীর আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করতে লাগলাম।

কয়েক মিনিট পরেই আমার কাঙ্খিত রিপ্লাইটি এলো। এরকম একটি মেয়ে এত দ্রুত রিপ্লাই দিয়ে দিলো। আমি তো খুশিতে আটখানা। আমি মুহূর্তেই ওর প্রোফাইলে ঢু মারলাম। অনেক ছবি পাবলিক করা রয়েছে। আমি ছবিগুলো দেখছিলাম আর যারপরনাই মুগ্ধ হচ্ছিলাম। এরমধ্যে 'মাই জিম ফটো' নামে একটি অ্যালবাম পাবলিক রয়েছে। আমার চোখ দুটি ততক্ষণে ছানাবড়া। ক্লিক করতেই আঁটসাঁট পোশাক পরা সিনথিয়ার ছবি। ট্রেডমিলে দৌড়াচ্ছে। সাইক্লিং করছে। এমনকি ভারোত্তোলন করার ছবিও রয়েছে। তবে তাতে পেছনে একজন বডিবিল্ডার দাড়িয়ে আছে।
শালাকে দেখে আমার এবার মেজাজটা একেবারে বিগড়ে গেল। মনে হলো এই গুলটি গুলটি মাসল নিয়ে সালমানের ভাব। পা-গুলি আবার শুটকা শুটকা এমনকি সিনথিয়ার থেকেও রোগা। এ নাকি বডিবিল্ডার। শালা বাটুল দ্য গ্রেট। আই মিন বাটুল দ্যা মিন। যাই হোক এর উপর মনের সব রাগ ঝেরে খুশি মনে অ্যালবামটি থেকে সিনথিয়ার কয়েকটি ছবি ফোনে সেভ করে রাখলাম। ভাবলাম পরে কাজে আসতে পারে।

লিসার সাথে কথা না বললে বয়েই গেল। যেভাবেই হোক একে পটাতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আমি খুঁজে টুজে একটা চিনা হাসির ভিডিও পাঠালাম। কিছুক্ষণ পরে সিনথিয়া একটা হা হা রিয়েক্ট দিল।
আমার ততক্ষণে মনের ভেতর লাড্ডু ফুটতে শুরু করেছে। এরকম হট একটি মেয়ে রাত তিনটায় আমাকে হা হা রিয়েক্ট দিয়ে দিল। আহ! কত সৌভাগ্যবান আমি।

যেখানে কিনা আমি সারা সন্ধ্যা কি সব শারীরিক ভাষা মেলাতে ব্যস্ত ছিলাম। এখন সেসব ভেবে নিজের কাছেই হাসি লাগছে। সবকিছুই ছিল আমার মনগড়া। আপন মনে হাসতে হাসতে মাথা নাড়লাম।

পরদিন সকালে যথারীতি ক্লাসে গেলাম। আমার এক চেয়ার পেছনে বসে ছিল লিসা। আমি ওকে তেমন একটা পাত্তা না দেয়ার ভান করলাম। আমার পাশের চেয়ারে বসা রাসেলের দিকে তাকিয়ে কোন এক গল্পে মেতে উঠার চেষ্টা করলাম। ছোটখাটো বিষয়ে অনেক বেশি রিএক্ট করতে থাকলাম। জোরে জোরে হেসে উঠলাম। হঠাৎ করেই মনে হল আমি একটু বেশি উচ্চস্বরে কথা বলছি।
তাই তো? আমি এত উচ্চস্বরে কথা বলছি কেন? আমার তো কাউকে কোন কিছু শোনানোর প্রয়োজন নেই। এবার গলার স্বর একটু নামিয়ে ফেললাম। কিছুক্ষণ কথা বলার পরে মনে হলো স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি নেমে গেছে গলা।

হঠাৎই দরজার দিকে চোখ যেতেই দেখলাম সিনথিয়া ক্লাসের ভেতর ঢুকছে। মনে মনে ভাবলাম এবার প্রতিশোধ নেয়ার পালা। কাল তুমি নিয়েছো। আমি ছটফট করেছি। আজ আমি নিব। তুমি ছটফট করবে। ভেবেই আমি অতি উৎসাহের সাথে সিনথিয়ার দিকে হাত নাড়লাম। সিনথিয়া প্রথমে খেয়াল করলো না। আরেকবার হাত নাড়তেই নিজের বুকে হাত রেখে ইঙ্গিত করল, আমি?
আমি কয়েকবার মাথা ঝাকালাম। ইশারায় বুঝলাম, আমার পাশের সিটটা খালি।
সিনথিয়া হাসিমুখে এসে আমার পাশের সিটের উপর ব্যাগ রাখলো। আমি একটু আড়চোখে পেছনে দেখার চেষ্টা করলাম। লিসা আমার বন্ধু সায়েমের সাথে পড়াশোনা নিয়ে কথা বলছে। যেন আমাকে খুব একটা খেয়াল করছে না। আমি একটু উত্তেজিত হয়ে টেবিলের নিচে একটা পা নাড়াতে লাগলাম। বেশি চিন্তিত থাকলে আমি একটি করি।

আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমাখা মুখে সিনথিয়া বললো, কেমন আছো?
আমি মাথা নেড়ে জবাব দিলাম, এইতো ভালো।
তুমি সব সময় এই দিকটায় বস?
আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম। বললাম, তুমি?
সিনথিয়া হাতে ইশারা করে দরজার দিকের একটা আসন দেখাল। আমি জীবনে প্রথমবার দেখেছি এমন একটা ভান করে মাথা নাড়লাম।
অথচ আমি আর রাসেল কতো যে গবেষণা করেছি ওই সিট নিয়ে, তার কোন হিসেব নেই।

সিনথিয়া হাসিমুখে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক সেই সময় ক্লাসে ঢুকলো আমার এক্স-ক্রাশ, সরি বর্তমান ক্রাশ, না, না আমার এক্স-ক্রাশ রোজি ম্যাম। আমি তার দিকে তাকিয়ে একটু একটু করে চোখ সরিয়ে নিতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে আমার ও সিনথিয়ার দিকে খেয়াল করতে করতেই ক্লাসে ঢুকলো। আমি লক্ষ্য করছিলাম সে বারবার তার সিল্কের পাতলা শাড়িটি টেনে টেনে ঠিক করার চেষ্টা করছিল। তাকে দেখে কিছুটা নার্ভাস মনে হল।

হাতের ফাইলগুলি গোছানোর সময় হঠাৎ আমাদের দিকে আড়চোখে লক্ষ্য করলো।

আমি আমার মোবাইলের স্ক্রিনটি একটু উপরে তুললাম। লক করা মোবাইলের কালো স্ক্রিন আয়না হিসেবে ভালো ব্যবহার করা যায়। অবশ্য সবাই এটির ব্যবহার জানে না। যাই হোক, আমি সেই আয়না দিয়ে পেছনে লিসাকে দেখার চেষ্টা করলাম। এই মুহূর্তে ওর ভাবনা কেমন, খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। মোবাইলের আয়নায় লক্ষ করলাম আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে সে। আমার মোবাইলের অদ্ভুত নরণ-চরণ সে খেয়াল করলো কিনা, আমি দ্রুত মোবাইলটি নামিয়ে পেছন দিকে ঘাড় ঘোরাতেই সে অপ্রস্তুত ভাবে বইয়ের পাতা উল্টাতে শুরু করলো।

এদিকে রোজী ম্যাম একটু কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করল। তারপর সবার উদ্দেশ্যে জানতে চাইলো সবাই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছে কিনা।
যারা দেয়নি তাদের হাত তুলতে বলল। আমি আর পেছনে আরেকটা ছেলে, আমরা দুজন হাত তুললাম।

রোজি ম্যাম ফাইলের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে বলল, যারা অ্যাসাইনমেন্ট এখনো জমা দেয়নি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে জমা দিয়ে দিতে হবে। বলতে বলতে সে এক পলকের জন্য আমার দিকে তাকিয়ে ফেলে। আর সঙ্গে সঙ্গেই আমার সাথে তার চোখাচোখি হয়ে যায়। ম্যাম চোখ নামিয়ে ফেললেও আমরা দুজনেই বুঝতে পারলাম দুজন দুজনের কাছে ধরা পড়ে গেছি।

তার চাহনিতে ছিল এক ধরনের ঈর্ষা। আর সেটা সে কোনভাবে লুকাতেও পারছিল না। বোঝা গেল এই ব্যাপারটিতে বড়ই অদক্ষ সে। (চলবে)

Khondkar, Ahmed Chanchal, Sk nadim, Sofikul alom, Nera akter, Israyeel hossen, RabbY khan and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
শুকতারা
শুকতারা
Posts : 68
স্বর্ণমুদ্রা : 343
মর্যাদা : 20
Join date : 2021-05-22
View user profile

প্রত্যাবর্তন Empty Re: প্রত্যাবর্তন

Fri Jun 04, 2021 1:21 am
৩|

সিড়ির উপর আমি বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সবাই আছে সেখানে, শুধু লিসা ছাড়া। কথা বলতে বলতে সায়েমকে উদ্দেশ্য করে বললাম, তুই লিসাকে কোন চ্যাপ্টার গুলি দেখাচ্ছিলি?
নিশির সাথে গল্পে মশগুল সায়েম একটু ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকালো। আমার হঠাৎ করা প্রশ্নের উত্তরে সে বলল, কখন?
আমি বললাম, ওই যে ক্লাসে?
ও আচ্ছা! লিসা, পুরনো একটা চ্যাপ্টার আমাকে বুঝিয়ে দিতে বলছিল। আমিও ওকে সেটা অনেক আগে বুঝিয়ে দিয়েছি।
আমি প্রশ্নসূচক ভঙ্গিতে কপাল ভাজ করলাম।
সায়েম উত্তর দিল, কি জানি একই চ্যাপ্টার আবার সে বুঝতে চাইল। তারপর ঠোঁট উল্টে সে ফের নিশির সাথে গল্পে ব্যস্ত হয়ে পরলো।
আমার মাথায় ঢুকছিল না পুরনো চ্যাপ্টার নতুন করে বুঝতে চাওয়ার অর্থ কি!
একটু দূরে সিনথিয়া তার এক ছেলে বন্ধুর সাথে সামনে কোথাও হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে ঘাড় ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকালো সে। আমাকে দেখে উৎসুক ভঙ্গিতে তার ছেলেবন্ধুটি সহ সামনে এসে দাঁড়ালো।
আরে সাদিক! এখনো বসে আছো?
সিনথিয়া তার মুখে আমার নামটি নিতেই আমার বুকের ভেতরটা কেমন হালকা একটা হয়ে আসলো।
আমি কিছুটা ইতস্তত করে পাশের ছেলেটার দিকে তাকাতে তাকাতে বললাম, আসো আমাদের সাথে জয়েন করো। সিনথিয়া একটু মুচকি হাসল তারপর তার পাশে থাকা ছেলে বন্ধুটিকে সিঁড়ির এক পাশে বসতে বলে, নিজে আমার পাশে এসে বসলো। মেঘ না চাইতে বৃষ্টির পাওয়ার মত আমার ভেতরে এবার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। এরই মধ্যে লক্ষ্য করে দেখলাম সায়েম, রাসেল সিনথিয়ার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
সিনথিয়া তার সোনালী সিল্কি চুল গুলি হাত দিয়ে ঠিক করল। তার পাশে থাকা বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে তাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
এটা হচ্ছে সাব্বির আমার স্টাডি পার্টনার। সাব্বির দেখতে একটু বেটে খাটো। চেহারাটা মিষ্টি গায়ের রং একটু চাপা। তবে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আমি তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিলাম। মনে মনে একটু খুশিই হলাম।

সিনথিয়ার দিকে ফিরে বললাম, তুমি আমাদের সাথে জয়েন করতে পারো। আফটার অল, আমরা সবাই একই সেশনের স্টুডেন্ট। সিনথিয়া একটু হাসলো বলল, হুম সেটা মন্দ হয় না।

আমরা গল্প করতে করতে গল্পের এক পর্যায়ে কি একটা নিয়ে খুব হাসাহাসি চলছিল। ঠিক সেই সময় কিছুটা দূর দিয়েই লিসা আমাদের পাশ কাটিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। রাসেল ওকে দেখেই হাক ছেড়ে ডাক দিল, এই লিসা একা একা কই যাচ্ছিস? ডাক শুনে যেন একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল লিসা, উত্তরে বলল, এইতো একটু সামনে।
রাসেল হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, সামনে কি?
কিছুটা তড়িঘড়ি করে লিসা উত্তর দিল, একটা কাজ আছে। কিছুটা অপ্রস্তুত নার্ভাস সে।

আমি আসি? রাসূল তাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করল।
না ঠিক আছে। লিসা সরাসরি জবাব দিল। আসতে হবে না।
আমি আড়চোখে লিসার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ইতিমধ্যে আমাদের হাসাহাসি থেমে গেছে। সিনথিয়া নিজেও লিসার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ করে সবার মনোযোগ লিসার দিকে চলে যাওয়ায় কিছুটা অপ্রস্তুত লিসা আর কথা বাড়ালো না। হন হন করে সামনে এগিয়ে গেল।

বাকিদের কেউ কিছু না বুঝলেও আমার মনে মনটা একটু খচখচ করে উঠলো। আমি বাকিটা সময় আড্ডা দিয়েছি আর আশেপাশে তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজে বেরিয়েছি। লিসা আর আসেনি আমাদের সাথে যোগ দিতে। সাধারণত ক্লাস শেষে সে সব সময় আমাদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরে। আজকে সেটা হলো না। অনেকটা সময় অপেক্ষা করে যখন দুটোর বেশি বেজে গেছে, বুঝতে পারলাম আজ আর লিসার দেখা পাবোনা।

সিনথিয়া কিন্তু এরই মধ্যে আমার সাথে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আজকে গল্পের মাঝে সে প্রায়ই আমার কাঁধে চাপড় দিচ্ছিল। হাসতে হাসতে আমার শরীরে ধাক্কা দিচ্ছিল। এমনকি একবার আমার কান মলে দিয়েছিল। অন্য সময় হলে আমি এই ব্যাপার গুলিতে যারপরনাই খুশি হতাম। হাওয়ায় ভাসতে থাকতাম কিন্তু আজকে কেন যেন আমার মুড অফই ছিল। এতসব কিছুর মাঝেও আমার মনটা যেন অন্য কোথাও পড়েছিল। (চলবে)

Ahmed Chanchal, Tanjib arif, Sk nadim, Sofikul alom, Israyeel hossen, RabbY khan, Debasis sorkar and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
শুকতারা
শুকতারা
Posts : 68
স্বর্ণমুদ্রা : 343
মর্যাদা : 20
Join date : 2021-05-22
View user profile

প্রত্যাবর্তন Empty Re: প্রত্যাবর্তন

Fri Jun 04, 2021 1:23 am
৪|

দুপুরে লাঞ্চ সেরে মাত্র রুমে এসেছি। বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে খাটের পাশে ডেস্কের উপর রাখা ফোনটি হাতে নিলাম। ফোনের এলার্ট লাইটটি জলনিভু করছিল। আমি সাথে সাথে সেটি আনলক করলাম। মেসেঞ্জারে একটি টেক্সট এসেছে। টেক্সটটি লিসার কাছ থেকে এসেছে।
দেরি না করে দ্রুত সেটিতে চাপ দিলাম। মাই গড! এট লাস্ট, লিসা রিপ্লাই দিয়েছে।

সে শুধু লিখেছে, এইতো চলছে।
আমি মেসেজের প্রতিউত্তরে লিখলাম, কাল রাতে নক করেছি। এখন রিপ্লাই দিলে। তাছাড়া সকালে তো আমাদের দেখা হয়েছে। তোমার কেমন চলছে সেটা তো আমি দেখেছি।

মেসেজটি দিয়ে আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। লিসা সিন করেনি। মনে হয় নোটিফিকেশন থেকে দেখে নিয়েছে। আমি ফোনটি লক করে পাশে রাখলাম। সিন করে অ্যানসার দিলে রিপ্লাই দিব।

অপেক্ষা করছি। বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেছে। লিসা রিপ্লাই দিলো না। আমি ফোনটি নিয়ে আরেকবার চেক করলাম।
মেসেজটি এখনো সিন করেনি। তবে তাকে অনলাইন দেখাচ্ছে।

ভাবলাম আবার কি ভুল করে বসলাম। একটু ভাবতেই বুঝতে পারলাম ভুল একটা করেছি, কোথায় ওকে ইগনোর করবো, তা না ছ্যাবলার মতো এক ধরনের এক্সপ্লেনেশন দিয়েছি। অবচেতন মন থেকে এক ধরনের রাগ ঝেড়ে দিয়েছি।
আপন মনে মাথা নাড়তে লাগলাম। আবার চালে ভুল করে ফেলেছি। ও সকাল থেকে জ্বলছিল। জ্বলতে জ্বলতে দুপুরে এসে আমাকে রিপ্লাই দিয়েছে। আর আমি পুরো সুযোগটি মিস করি!
যেখানে আমার উচিত ছিল তাকে পুরোটা দিন অপেক্ষায় রেখে সন্ধ্যার সময় তার মেসেজের অ্যানসার করা। (অথবা আরেকটু বেশি প্রতিশোধ নিতে চাইলে শুধু সিন করা) সেখানে আমি এ কি করে বসলাম।

নাহ! লিসা আর অ্যানসার দেয়নি। মনের শান্তিতে ঘুম দিয়েছে। আর আমার মনে অশান্তি ধরিয়ে দিয়েছে।

আমি এসব বাদ দিয়ে এসাইনমেন্ট নিয়ে বসলাম এবার। শীঘ্রই শেষ করতে হবে। সামনের সপ্তাহে ডেডলাইন। না দিলে সুন্দরী ম্যাম কী ভাববে?

কিছুক্ষণ আগডুম বাগডুম করে ফোনটা আবার হাতে নিলাম। এমন একটা নেশা হয়ে গেছে, কয়েক মুহুর্ত পরপর ফোন চেক না করলে কেমন অস্থির অস্থির লাগে। কি হবে আমাদের এই জেনারেশনের!

আমি কল লিস্ট থেকে সিনথিয়ার নাম্বারটা বের করলাম। একটা ফোন দিলাম ওকে। ফোনটা ধরল না সিনথিয়া। ভাবলাম থাক আর ফোন দিব না। নিজেই ব্যাক করুক।
কয়েক মিনিট পরই সিনথিয়া ফোন ব্যাক করল।
কি করো? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
এইতো। কিছু করছি না। আজকের টপিকটা একটু দেখছিলাম।
ও আচ্ছা। ঠিক আছে পড়ো।
না, না বল। আমি শুনছি।
না, এমনি ফোন দিয়েছি। মনটা খুব একটা ভালো নেই।

একটু ভেবে সরাসরি একটি প্রশ্ন করলাম, বিকেলে কি একটু সময় হবে তোমার?
কেন বলতো? সিনথিয়া জানতে চাইল।
ইয়ে মানে, একটু ইতস্তত করে সরাসরি কথাটা বলে ফেললাম, বিকেলে একটু বের হতে পারবে?
সিনথিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। বলে, একটা কাজ আছে। সেটা না থাকলে বের হতাম।
ও আচ্ছা। ঠিক আছে অসুবিধা নেই। আরেকদিন বের হওয়া যাবে। সিনথিয়া কোন উত্তর দিল না।
আমি বললাম, আচ্ছা পড়ো তাহলে। পরে ফোন দিবো।

আমি ভাবলাম, সত্যিই কি কাজ আছে তার? নাকি কারো সাথে ডেটিং আছে। অন্য একদিন দেখা করবো জিজ্ঞেস করলাম, সেটিরও তো কোন জবাব দিল না।

উফ! আমার না আর ভাল্লাগছেনা। এসব প্রেম-ট্রেম করতে ইচ্ছা করছে না আর। এক একটা মেয়ে এক এক ধরনের। যেন এক একটা বই। পুরো বই পড়ো, তারপর বুঝতে পারবে।
উফ, বাবা কে যাবে পুরো বই পড়তে!

এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ করে সিনথিয়া কল দিল। আমি কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলেল, কি করো সাদিক?
এইতো কিছু না।
কোন উত্তর দিল না সিনথিয়া। তবে কি সান্ত্বনা দেয়ার জন্য ফোন দিয়েছে আমাকে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, ইউটিউবে এক্সারসাইজের ভিডিও দেখছিলাম।
ও আচ্ছা। খুব ভালো। তুমি রেগুলার এক্সারসাইজ করো?
এই করি আর কি। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ গুলি করি।
হুম, দেখলে বোঝা যায়। শান্ত কন্ঠে বলল কথাটি।
আমার বুকে একটু চিলিক দিয়ে উঠলো। ভাবলাম কেমন দেখা যায় ভাল না মন্দ?

এবার সিনথিয়া বলল, আচ্ছা শোনো আমি বিকেলে ফ্রি আছি। তুমি কি বের হতে পারবে?
আমি চট করে বিছানায় উঠে বসলাম। বললাম, হ্যাঁ পারবো। মনে মনে ভাবলাম বেশি উত্তেজিত শোনাচ্ছে না তো আমার কন্ঠ।
গলা একটু নামিয়ে আনলাম। যা পাওয়ার তা পেয়ে গেছি। এবার একটু শান্ত ভাব দেখাতে হবে। বললাম, আমি আজকে একটু ফ্রী আছি। তবে সাধারণত এই সময়টা খুব একটা ফ্রি থাকি না। একটু বাড়িয়ে বললাম। আসলে আমি তো পুরো বিকেলই ফ্রী থাকি।
ওকে, ঠিক আছে। তো কটায় বের হতে চাও তুমি? জিজ্ঞেস করলাম।
এইতো পাঁচটায়?
ওকে। আমি ফোন রেখে দিলাম।

মনে মনে ভাবলাম সবকিছু একটু দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে না? কেমন যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! যাই হোক আমি চট করে বিছানা ছেড়ে উঠে পরলাম। আগে কয়েকটা পুশ আপ দিয়ে নেই। অন্তত ৫০ টা দিব আজ। দেখা করার আগে একটু বুকটা ফুলিয়ে নিতে হবে না!

বিকেল পাঁচটায় আমরা কফিশপের একটি কোনায় মোটামুটি কাপলদের জন্য ফিক্সট, এরকম একটি টেবিলে বসলাম। ভাবলাম, এখানে কেউ আমাদের ডিস্টার্ব করবে না। বেশ নিরিবিলি।

সকালের দিকে ক্লাসে আমরা যতটাই উৎসুক ছিলাম, এখন যেন ঠিক ততটাই রিজার্ভ হয়ে গেছি দুজনে।
সিনথিয়া নিজেও কম কথা বলছে। আমিও খুব একটা কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
ভাবলাম এভাবে চলতে থাকলে প্রথম ডেটিংয়েই মেয়েটা ভাবে ছেলেটা খুব বোরিং।
মেয়েরা অসুন্দর ছেলে অপছন্দ করে না। আবার সুন্দর ছেলেও সব সময় পছন্দ করে না। কিন্তু বোরিং ছেলে তারা রীতিমতো অপছন্দই করে।
তারা চায় তাদের সাথে যে থাকবে, সব সময় হাসিখুশি সময় কাটাবে সে। হবে আনন্দময়, উচ্ছল। কথায় কথায় হাসিয়ে দিতে পারবে তাকে।
মনে মনে ভাবলাম এগুলোর কোনটাই তো আমার মধ্যে নেই। না আমি উচ্ছল। না চঞ্চল। না আমি মিশুক, না জোকার।
তবে হ্যা আমি আমার মতো। খুব বেশি মুডি না। আবার ছ্যাবলাও না। একটু মিনমিনে দুস্ট। যা-ই হোক। যদি কেউ আমাকে ভালোবাসে তবে আমার এই দুর্বলতা নিয়েই ভালোবাসবে। কারো জন্য আমি আমার নিজের ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন করতে পারবো না।

এসব ভাবতে ভাবতেই হটাৎ সিনথিয়ার সোনালী চুলের দিকে আমার চোখ চলে গেল। এত সুন্দর চুল আমি খুব বেশি মেয়েদের মধ্যে পাইনি।
এবার আঙ্গুল দিয়ে আঁচড়ানোর মতো করে চুলের উপর হাত চালালো সিনথিয়া। সেটি দেখে আমার সাথে সাথেই গতকালের গুগলের সাইনগুলির কথা মনে পড়ে গেল। মেয়েরা কোন ছেলেকে পছন্দ করলে হাত দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ানোর চেষ্টা করে। ঘাড়ের উপর থেকেও চুল সরিয়ে দিতে পারে। আরো হাবিজাবি অনেক কিছু আছে। এখন মাথায় আসছে না।

আমি বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ আছি দেখে, সিনথিয়া এবার বলল, তুমি তো ক্লাসে এরকম চুপচাপ থাকো না। গল্পে গল্পে অনেক কথা বলো। আজকে কি হলো। এরকম চুপ মেরে আছো যে?

আমার মনে হল ও একটু ডাউট করছে। আমি কি সত্যিই তার সাথে কম্ফোর্টেবল। দেখা করে খুশি হয়েছি?

আমি শুধু বলতে পারলাম, এইতো কথা বলছি।
এবার সিনথিয়া তার হাতের মুষ্টির উপর থুতনি রেখে সামনের কাচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। এমন একটা ভঙ্গি করে তাকিয়ে রইল, যেন বেশ কিছুক্ষণের জন্য সে আর আমার দিকে ফিরছে না।
অন্যমনস্ক ভাব দেখানোর চেষ্টা করলো, যদিও আমি বুঝতে পারলাম সে পুরোপুরি অন্যমনস্ক নয়। তার মনের একটা অংশ আমার দিকে মনস্ক।
অসাধারণ চওড়া চিবুক আর ভেতরের দিকে বসানো গালটা দেখতে মনমুগ্ধকর। ওর পার্শ্ব চেহারার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম। মুখে অতিরিক্ত মেদ নেই। অনেকটা জিম করা মেয়েদের চেহারা যেরকম থাকে সেরকমই টিপিক্যাল চেহারা।
এক দেখাতেই যেকোনো মানুষ পছন্দ করে ফেলবে। আর ফিগার সেটা আর নাই বা বললাম। আচ্ছা একটু বলি। ছিপছিপে গড়নের, লম্বা চওড়া দেহ। কোমরে একটু বাকও রয়েছে। যাই হোক অনেক বলে ফেলেছি।

হঠাৎ করেই সিনথিয়া মুখ ঘুরে আমার দিকে তাকাল। বলল, আচ্ছা লিসা কি সবসময় তোমাদের সাথে স্টাডি করে।
হ্যাঁ। মোটামুটি করে। আমি একটু আমতা আমতা করে উত্তর দিলাম। কারণ সিনথিয়া খুবি গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় হাত দিয়েছে।
প্রথমত লিসার নাম শুনে আমি যে একটু নার্ভাস হয়ে পড়েছি, সেটা হয়তো সে খেয়াল করেছে।
দ্বিতীয়ত সে নিজেই সিনথিয়ার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছে। তার অর্থ সে অলরেডি আমার মন নিয়ে ভাবতে শুরু করে দিয়েছে।
কি করা যায়, কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ওয়েটার চলে এল, আমাদের জন্য দুই কাপ কফি একটি ট্রেতে করে নিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে কফির মগ দুটি টেবিলে রেখে আমাদের দিকে বাড়িয়ে দিল।
তারপর জিজ্ঞেস করল, স্যার আর কিছু লাগবে? আমি সিনথিয়ার দিকে তাকালাম। সিনথিয়া না সূচক মাথা নাড়লো।
আমি বললাম, না আর কিছু লাগছে না। এতোটুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট। কথাটি শুনে সিনথিয়া আমার চোখের দিকে তাকালো। কিছু একটা ভাবল। তারপর গরম কফিতে তার লিপস্টিক মাখানো চিকন ঠোঁট গুলি গোলকরে একটা ফু দিল। এরপর নিঃশব্দে একটা চুমুক দিলো। (চলবে)

Ahmed Chanchal, Tanjib arif, Sk nadim, Sofikul alom, Nera akter, Israyeel hossen, RabbY khan and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
শুকতারা
শুকতারা
Posts : 68
স্বর্ণমুদ্রা : 343
মর্যাদা : 20
Join date : 2021-05-22
View user profile

প্রত্যাবর্তন Empty Re: প্রত্যাবর্তন

Fri Jun 04, 2021 1:24 am
৫|

আজকে ক্লাসে আমার পেছনের সিটে বসেনি লিসা। আমার বন্ধু সায়েমের সাথে ওপাশের একটি সিটে গিয়ে বসেছে। এমনকি ক্লাসে ঢোকার সময় আমার সাথে কোনো ধরনের কথাও বলেনি।

আমি কি তবে তার সাথে অনধিকার চর্চা করে ফেলেছি। মেসেঞ্জারে কালকের টেক্সটগুলি কি সে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। আসলে লিসার কাছে আমার অবস্থানটাই বা কি! মাঝে মাঝে নিজেকে বড় অসহায় লাগে। মনে হয় আমি মেয়েটিকে বুঝে উঠতেই পারি না।
সে তো আমার এক সময়কার ক্রাশ। আমি তাকে সব সময় পছন্দই করে এসেছি। কিন্তু আমার জন্য সত্যিই কী তার মনের ভেতরে কোন বিশেষ জায়গা রয়েছে?

আজ চুলগুলি ছেড়ে বসেছে লিসা। ঘন কালো চুলগুলি তার যেন মোহনীয় রুপ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। হাসিমাখা মুখে সায়েমের সাথে কথা বলছে। গালে সেই চিরাচরিত টোল পড়েছে। দেখে আন্দাজ করা মুশকিল সত্যি সত্যিই কী সে সুখে আছে!

লিসার ব্যাপারে যতটাই ভাবছিলাম ততটাই দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ছিলাম। যদি সে আমাকে পছন্দই করে থাকে, ভালোবাসে, তবে কি আমার সেই কথায় তার কিছু মনে করার সম্ভাবনা রয়েছে।

হুম, ভালবেসে থাকলে সে আমার কথায় কিছু মনে করতেও পারে। আমার উপর তার এক ধরনের অধিকার রয়েছে যে। আজে বাজে কথা আমার কাছ থেকে আশা করবে না সে। তবে এটাও ঠিক আমি ম্যাসেঞ্জারে তাকে এমন কিছুই বলিনি। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়।

সিনথিয়া একটু আগে ক্লাসে ঢুকেছে। আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে তার পুরনো চেয়ারটিতে গিয়ে বসেছে। আমি কি একটা ভেবে, ওকে আর ডাকলাম না। কি জানি নিজের অবচেতন মন যেন তার সাথে স্মৃতিতে জড়াতে চাচ্ছে না। ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাচ্ছে না। সেও কি ব্যাপারটি বুঝেতে পারল।

কিন্তু পরক্ষণেই মুখ ঘুরিয়ে লিসার দিকে তাকাতেই আমার কাছে মনে হল, সিনথিয়াকে আমার প্রয়োজন। এই মুহুর্তে তাকে লাগবে আমার। এবার অনেকটা জোর করেই সিনথিয়ার দিকে ঘুরে ডাকি তাকে। প্রথমে সে মাথা নাড়লেও, পরে ব্যাগ পত্র গুছিয়ে আমার পাশে এসে বসে। চেহারায় এক ধরনের কপট অনিচ্ছা প্রকাশের প্রবণতা।

সিনথিয়া আমার অস্থিরতা লক্ষ্য করেছে। হঠাৎ করে আমি তার দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।

লিসা কিন্তু সিনথিয়ার মতো কাটাকাটা চেহারার অধিকারীনি নয় বরং তার চেহারা একটু গোলগাল। তাছাড়া সিনথিয়ার মতো ছিপছিপে লম্বাগড়নও তার নেই। তার চেয়ে একটু খাটো, নাদুস-নুদুস। যেখানে সিনথিয়া বলা চলে এক ধরনের মডেল, সেখানে লিসা অনেকটাই ঘরোয়া ধরনের। থাকে না, বাবা মার পছন্দের কিছু মেয়ে, ঠিক সেইরকম।

সিনথিয়াকে দেখলে যে কোন ছেলেই ক্রাশ খেতে বাধ্য, অথচ এই মহাসুন্দরী মডেলটি আমার ভেতরে নাড়া দিতে পারছে না। এই বিষয়টি আমাকে যারপরনাই অবাক করে চলছে।

অ্যাসাইনমেন্টের কাজে এগিয়েছো? আমাকে উদ্দেশ্য করে সিনথিয়া বলল।
আমি একটু ইতস্তত করে উত্তর দিলাম, না, এখনো হাত দেইনি।
কবে হাত দিবে?
আমি ঝট করে তার দিকে ঘুরে তাকালাম। তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, দেখি আজকে লেগে পরব।
সেটাই ভালো। লেগে পরো। একটু ঠাট্টা করে বলল সিনথিয়া। তোমার সুন্দরী ম্যামের কথাটা মাথায় রেখো।
আমি দ্রুত কয়েকবার মাথা নাড়লাম। ভাবলাম এটা তবে ওপেন সিক্রেট। এই জন্য ম্যাম আমাকে পাত্তা কম দেয়। নিশ্চয়ই সেও বুঝতে পারে বিষয়টা।

আড়চোখে একবার পেছনে তাকালাম আমি। লিসার সাথে সায়েমের দহরম মহরমটা যেন একটু বেশি বেড়ে গেছে। সাদা চামড়ার সায়েমের উপর আমার এবার যেন একটু হিংসা হতে শুরু করেল। যদিও সায়েম আমার ভাল বন্ধু। কিছু কিছু মেয়েদের ফর্সা ছেলের প্রতি কেন যে এতো আকর্ষণ!

সিনথিয়া আমাকে খেয়াল করেছে। যদিও সে মুখে কিছু বলল না। কিন্তু তার চেহারায় এক ধরনের গাম্ভীর্য লক্ষ করেছি আমি।
তুমি কি অ্যাসাইনমেন্টটি করতে আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবে? পরিস্থিতি একটু হালকা করার চেষ্টা করলাম।
সিনথিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর উত্তর দিলো, পারব। তুমি কখন করতে চাচ্ছো?
আজ বিকেলে।
কোথায়? সেই পুরনো কফিশপে বসে?
না।
ভার্সিটির ক্যাম্পাসে। তুমি বিকেলে চলে এসো। আমি আমার শিটগুলি নিয়ে আসব।
কিছুক্ষণের মধ্যে রাসেল ক্লাসরুমে ঢুকেছে। ধুপ করে আমার পাশের সিটে তার ব্যাগটি রেখে আমার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করল, দোস্ত কালকে বার্সেলোনার খেলা দেখসিশ?
আমি কিছুটা বিরক্ত হলেও, মুখে সেটি প্রকাশ করলাম না। মনে মনে ভাবলাম, শালা, এসব জিজ্ঞেস করার আর সময় পেল না। ওদিকে রাসেল কিন্তু বলেই চলছিল, মাস্ত একটা খেলা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে দুটো গোল দিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। আমি চুপ করে ধৈর্য সহকারে ওর বকবকানি শুনছিলাম আর মাঝে মাঝে মাথা নাড়ছিলাম।
এর মধ্যে সিনথিয়া ফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেছে।
হঠাৎ করে আরেকটা চাপড় দিয়ে রাসেল আমাকে বলল, আজ বিকেলে একটা ম্যাচ আছে৷ তুই স্ট্রাইকার হিসেবে আমাদের দলে খেলবি।
আমার মাথাটি তৎক্ষণাৎ রাসেলের দিকে ঘুরে গেল। সম্ভবত সিনথিয়াও ব্যাপারটি খেয়াল করছে। ফুটবল খেলার নেশা আমি সামাল দিতে পারি না।
কিন্তু মনে মনে ভাবলাম, আজ তো সেটা সম্ভব নয়। আমি চুপ থাকায় রাসেল আবার জিজ্ঞেস করল, কিরে, যাবি না?
সিনথিয়া আড়চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি ভাবলাম, ভেবেচিন্তে জবাব দিতে হবে। খেলতে যতই ইচ্ছা করুক কথা দিয়ে কথা রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা সিনথিয়াকে আমার প্রয়োজন। ওকে রাগালে চলবে না।
সিনথিয়ার মনোযোগ এখন আমার দিকে। যদিও সে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমার জবাবের অপেক্ষা করছে।
আমি রাসেলের দিকে ফিরে তাকিয়ে সরাসরি জবাব দিলাম, আজকে আমি একটু ব্যস্ত আছি। অন্য একদিন।
রাসেল জাস্ট হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মাথাটি একটু সামনে এগিয়ে নিয়ে সিনথিয়াকে দেখল। আর কোন কথা বলল না সে।

এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা। নীরবতা ভেঙে আমি রাসেলকে জিজ্ঞেস করলাম, তোর নোটগুলো আমাকে একটু দিতে পারবি?
খুঁজতে হবে। রাসেল অন্যমনস্ক ভাবে জবাব দিল।
তার গম্ভীরতা দেখে আমি আর কিছু বলার সাহস করলাম না। এই মুহূর্তে সিনথিয়ার সাথে আর কিছু বলা ঠিক হবে না।
আমি একটু আড়চোখে সিনথিয়ার মোবাইলের দিকে তাকালাম। টিং করে একটি মেসেজ এসেছে। আইডিটির নাম হাসিব ... মেসেজটি দেখার চেষ্টা করলাম, তোমার নামে ... মেসেজটি সরিয়ে দিয়েছে সিনথিয়া।

আমি ও সিনথিয়া ভার্সিটির ক্যাম্পাসে চলে এসেছি। আমি একটার পর একটা নোটগুলি গুছাচ্ছিলাম। সিনথিয়া সেগুলি মিলিয়ে দেখছিল।
আর আমি আড়চোখে তাকে দেখেছিলাম। আজকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে তাকে। সোনালী চুলগুলি ঘাড় অবধি ছাড়িয়ে পিঠের উপর এসে পড়েছে।
চেহারার মধ্যে এক ধরনের সিরিয়াসনেস ভাব। যেন আমার কাজটি করে দিতে সে খুবই মনোযোগী। মাঝেমাঝেই ভ্রু কুঁচকে উঠছে।
আমি চোখ সরানোর আগেই হঠাৎ করে আমার দিকে মাথা তুলে তাকাল সে। আমি চট করে ঘাড়টি সরিয়ে নিলাম। সিনথিয়া কিছু না বলে আবার কাজে মনোযোগ দিল।

ঠিক তখনই হঠাৎ করে আমার মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলো, পকেট থেকে বের করে কলারের নাম দেখে আমার চোখ কপালে। লিসা কল দিয়েছে। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না, হঠাৎ করে এই বিকেলে! সে সাধারণত এভাবে আমাকে কল দেয় না।

আমি কলটি কেটে দিতে পারছিলাম না। লিসা যে আমার প্রথম ক্রাশ। আবার ধরতেও সাহস পাচ্ছিলাম না। সিনথিয়া আমার সামনে বসা। আমার লেটেস্ট ক্রাশ।

যাই হোক রিসিভ আর ডিক্লাইন এর মধ্যে রিসিভ জয়ী হলো। আমি কলটি ধরলাম।

হ্যালো। লিসার মিষ্টি কন্ঠ।
হ্যালো। আমার কাঁপা কাঁপা গলা।
কি অবস্থা? কিছুক্ষণ চুপ করে লিসা জিজ্ঞেস করল।
এইতো ভালো। আমি সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলাম। সিনথিয়া ইশারায় কলার কে জানতে চাইল। আমি তুমি উত্তর দিলাম না।
অ্যাসাইনমেন্টের কি অবস্থা? এসে জিজ্ঞেস করল। এবার যেন আমার বুকটা ধক করে উঠলো। লিসা কি কিছু জানে?
শেষ করার চেষ্টা করছি। আমি উত্তর দিলাম।
কেন যেন আমি সিনথিয়ার সাথে আছি কথাটি না বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। দুইদিন আগে হলেও হয়তো লিসাকে ঈর্ষা করানোর জন্য কথাটা বলতাম।
কালকে সায়েমের সাথে চলো বসি এক সাথে। লিসার গলার স্বরে একটু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি।
আচ্ছা। আমি উত্তর দিলাম।
এখন কি করছো?
কিছু না।
খেলতে যাচ্ছ না?
হুম, যাবো।
ওকে। ঠিক আছে রাখি। লিসা হঠাৎ করি ফোনটি রেখে দিল।

সিনথিয়া আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ফোনে কে? ফোনটি কেটে যেতেই আমি বললাম, আরে আশফাক।
আশফাক আমাদের ইয়ারমেট। অন্য সেকশনের।

সিনথিয়া কয়েক মুহুর্ত আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হুট করেই মাথাটা নীচে নামিয়ে বলল, এই নোটগুলি খুব ইম্পর্টেন্ট।

পরদিন ক্লাসে।
আজ লিসা ঠিক আমার পেছনের সিটেই বসেছে। আজকে ওকে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। দীঘল কালো চুল তার পিঠ অবধি ছড়িয়ে পড়েছে। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্কভাবে কিছু একটা পড়ছে সে। চেহারায় একটু ম্লান ভাব। আমি ওর ফর্সা গাল দুটির দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

হঠাৎ করেই রাসেল ধুপ করে তার ব্যাগটি আমার পাশের টেবিলের উপর রাখল। আমি এতটাই অন্যমনস্ক ছিলাম একটু যেন লাফিয়ে উঠলাম।
কালকে তো আসলি না! সেই খেলা হয়েছে! আমি দুইটা গোল দিয়েছি! তোকে খুব মিস করছিলাম। আমার উদ্দেশ্যে চেচিয়ে বলল রাসেল।
আমার ততক্ষণে জিভে কামড় পড়ে গেছে। পিছনে যে লিসা বসে রয়েছে। (চলবে)

Sk nadim, Sofikul alom, Nera akter, Israyeel hossen, RabbY khan, Debasis sorkar, Sk limon and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum