সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 8
স্বর্ণমুদ্রা : 228
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

আত্মোপলব্ধি Empty আত্মোপলব্ধি

Sat Jun 05, 2021 11:05 pm
তমালকে রান্নাঘরে কচুর লতি কুটতে দেখে মিনার তো পুরোমাত্রায় হতভম্ব হয়ে গেলো। দরজায় উঁকি দিয়ে সে তমালকে জিজ্ঞেস করে - কি রে তমাল তুই লতি কুটছিস যে ।ভাবি কৈ?
তমাল লতির আঁশ ছাড়িয়ে হাসিমুখে বলে- অনু এই সময়টাতে অন্দরমহল সামলায়।আমার মা এবং বাচ্চাদের খাওয়ানো, ওদের হোমওয়ার্ক করানোর পর নিজে নামাজ ও তসবিহ তাহলিল শেষ করে এদিকে আসে।তাই ভাবলাম ওর কাজটা এগিয়ে রাখি।তাছাড়া অনুকে আমিই ইচ্ছে করে লতি,বেদানা এসব কুটতে দিই না।হাতে দাগ লেগে যায়। দেখতে বিশ্রী লাগে।
- মেয়েরা রান্নার কাজ করলে হলুদ, সবজির দাগ তো একটু লাগবেই। মাছের আঁশটে গন্ধ আসবে।এ আর নতুন কি?
- তমাল ম্লান হেসে বলে - আমি আমার বউর যত্ন না করলে, খেয়াল না রাখলে কে রাখবে শুনি?
- তোর হাতে দাগ পড়ে না?
- আরে পাগল.. পুরুষের হাত হলো খেটে খাওয়া মজবুত হাত।মেয়েদের মতো মাখনের হাত তো নয়!! হাহাহা।

মিনারের কথাটা পছন্দ হলোনা।সে ড্রইংরুমে গিয়ে টিভির রিমোট নিয়ে বসলো।তমাল কাজ সেরে ডাইনিং এ গুটুর গুটুর শুরু করছে। সেটা লক্ষ্য করে মিনার গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে - ওখানে আবার কি করছিস? এখানে এসে একটু বস।কতদিন পরে দুবন্ধু দেখা।কোথায় একসাথে বসে আড্ডা দেব তা না। একটার পর একটা কাজ করেই যাচ্ছিস। কপোট রাগ দেখায় মিনার।
টেবিল গোছাতে গোছাতে মিনার বলে- রাত কতো হলো সে খেয়াল আছে? ডিনারের ব্যবস্থা করতে হবে না? আবার তো সেহেরির সময় হয়ে যাবে।
মিনার আরো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে - ওটাও তোর দায়িত্ব?
- ভাগ্যিস তোর মিটিং পড়েছে কোভিড এর মাঝে।তাই হোটেলে না উঠে আমার এখানে উঠেছিস।নইলে কি আর তুই এ মুখো হতিস?
- না এলেই ভালো হতো। নিজ চোখে তোর এমন বেহাল দশা দেখতে হতোনা। কপাল কুঁচকায় মিনার।
- কেনো বলতো?
দুপুরে দেখলাম তুই ভাবির শাড়ি, বাচ্চার কাথা ছাদে শুকাতে দিচ্ছিস।আমাদের এলাকায় হলে এতক্ষণে ঢিঁ-ঢিঁ পড়ে যেতো।মিস তমালিকা কিংবা বউয়ের ভেড়া খেতাব পেয়ে যেতিস বিনা উপঢৌকনে।
- তাই বুঝি ভাবির কাজে সাহায্য করিস না? তমাল হাসে।
- মিনার থতমত খেয়ে যায়। আবার বিকেলে দেখলাম ইফতারি সাজাচ্ছিস। রোজা রেখে, অফিস করে এসব করিস।তোর কষ্ট হয় না?
- তমাল একটু ও বিরক্ত না হয়ে উল্টো প্রশ্ন করে - আমি যখন এসব করি তখন তোর ভাবি কি করছিলো খেয়াল করেছিস?
- মিনার আমতা আমতা করে। জবাব দেয় না।

- ও তো বসে ছিলোনা, তাই না? ইফতারে যে হরেক পদের খাবার ছিলো, সেগুলোর পেছনে কতটা শ্রম আর মাথা খাটাতে হয় তা যদি নিজে করতি তাহলে বুঝতি।অনুকে বাসার সকলের খেয়াল রেখে আবার রান্নাঘরের এতকিছু সামলাতে হলে বেচারির উপর কতটা ধকল যেতো বল! আর রোজা তো আমি একা রাখি না। অনু ও রাখে।
সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাতে ঘুমের আগে পর্যন্ত মেয়েটা উপর দিয়ে কতো ঝক্কি যায়।আমি তো মাঝে মাঝে ছুটিছাটা পাই। কিন্তু তার তো কোনো অবসর নেই।রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে টেবিলে নাস্তা পাই।টিফিনের লাঞ্চের টিফিন বক্স, আয়রন করা ড্রেস সবকিছুই নিয়ম মাফিক তৈরি পাই।একবার ভাবতো এগুলো তৈরি করতে অনুকে কত সকালে উঠতে হয়? আমার মা এবং বাচ্চাদের তদারকি চাট্টিখানি কথা নয়। রান্নাঘরে সারাদিন ঘেমে নেয়ে একাকার সে।তবু তো সে কখনো " উহ" শব্দ করেনা।আর এদিকে আমি এসি গাড়িতে চড়ে, এসি রুমে মিটিং, সেমিনার, দস্তখত করি। সাথে চা নাস্তা আড্ডা তো থাকছেই। এবার বল কার কাজ বেশি জটিল।

মিনার মাথা নিচু করে কি যেন ভাবছে। তমাল আবার যোগ করে - আসলে ঘরের মেয়েদের কাজকর্মকে আমরা কখনোই মূল্যায়ন করি না।ওরা বিনা পারিশ্রমিকে, বিনা সন্মানে দিনান্ত পরিশ্রম করে।আমরা সেটা কজন ই বা খেয়াল করি।উপরন্তু কেউ কেউ তো " ওরা কিছুই করেনা " বলে টিপ্পনী কাটি।
চোখ বড় বড় করে কথা শোনে মিনার।
- তমাল তার স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে বলে - আমার অসুস্থতায় কপালে জলপট্টি কি পাড়ার লোকে এসে দেয়? রাত জেগে সেবা, ক্ষুধায় টেবিলে সাজানো মন পছন্দ খাবার,ব্যস্ততায় প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কি পাড়াপড়শি এগিয়ে দেয়? না তো।তাহলে আমার প্রায়োরিটি কে হওয়া উচিত, ঘরের বউ নাকি পড়শি?
তাছাড়া আমি তাকে সাহায্য না করলে ও সে একা হাতেই সবটা দায়সারা করে নিতো বিনাবাক্যব্যয়ে। এতে সময় বেশি লাগতো,ক্লান্ত হতো,ইবাদতে কম সময় পেতো। অনু যখন দেখে আমি ওর কাজে সাহায্য করছি, আমার প্রতি ওর ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও আস্থা বাড়ে।প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করে।সংসারটা তো দুজনের। তাই কাজগুলো ভাগাভাগি করলে দোষের কি? অনুকে তো বলেছি কখনো বাইরের জব করতে চাইলে, গৃহস্থালির কাজ দুজন সমানভাবে বন্টন করে নেব।হাহাহা।
মিনার খুব ভাবনায় পড়ে যায়।
- ভেবে দেখতো বছরে কয়দিন তুই পোড়া ভাত তরকারি খেয়েছিস।মনে করতে পারিস না তাই তো! অনু সারাদিন এতদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখে তারপরও কখনো বারান্দার টবের গাছগুলো পানিবিহীন থাকেনা, চড়ুইগুলো অভুক্ত থাকে না।এই যে অফিস শেষে বাসায় ফিরে ঘরদোর পরিপাটি, সুবিন্যস্ত পাই। সেটাকি এমনি এমনি হয়? যেখানে যেটা থাকার কথা, সেখানেই সেটা মেলে।আসলে বাড়ির মেয়েরা- হোক সে মা,বোন কিংবা স্ত্রী - এরা হলো সংসারের হার্ট। হার্ট কে সচল এবং সুস্থ রাখতে চাইলে তার যত্ন করতে হবে।নইলে হার্ট তার ক্রিয়া বন্ধ করে দিলে পুরো সংসারটাই স্থবির, অচল হয়ে যাবে। বুঝেছিস গাধা?

মিনার মোহমুগ্ধ হয়ে তমালের কথা শুনছিলো।নিজের মানষিকতার জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয় সে।এবার বাড়ি ফিরে নিজেকে পুরোপুরি বদলে নেবে বলে মনস্থির করে।স্ত্রী রুপার প্রতি সে এতদিন যে অসদাচরণ করে এসেছে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেবে।রুপা কি পারবে মিনারের রুঢ়, ঔধত্যপূর্ণ আচরন ভুলে গিয়ে তাকে মন থেকে ক্ষমা করতে! এখন থেকে খুব ভালোবাসবে রুপাকে।আর কক্ষনো অনুযোগের সুযোগ দেবে না মিনার।।

কলমে - আরাফ সুলতান।

Santa akter, Sk sagor, Rasel islam, Mr faruk, Sumaiya akter, Rokeya hoq, Sumon khan and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum