সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 8
স্বর্ণমুদ্রা : 223
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

ভুল Empty ভুল

Sat Jun 05, 2021 11:09 pm
১|
হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে প্রেমিকের হাতে ধর্ষিত হওয়া মেয়েটি। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় মেয়েটির রক্তের প্রয়োজন, ডাক্তার বলেছে ও নেগেটিভ রক্তের দরকার, না হলে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
মেয়েটির ভাই পাগলের মত এদিক সেদিক ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে রক্তের সন্ধানে বারবার ফিরে আসছে রক্ত না পেয়ে। একজন রক্ত দেওয়ার কথা ছিল সে যখন ফোন করে বলল আসতে পারবে না মেয়েটির মা চিৎকার করে ফ্লোরে বসে পড়ে বলতে লাগলো হায় আল্লাহ এমন কি কেউ নেই আমার মেয়েকে রক্ত দেবে।

আমি কোন কিছু না ভেবে তার সামনে এসে দ
দাঁড়িয়ে বললাম আমার রক্ত ও পজেটিভ আমি আপনার মেয়েকে রক্ত দেবো তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করতে বলেন ডাক্তারকে।

মেয়েটির ভাই দৌড়ে এসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলল আজ থেকে তুমি আমার ভাই তুমি যদি আমার বোনের জন্য রক্ত দিতে পারো আজ থেকে তুমি আমার ভাই হয়ে গেলে।

আমি নিজেই খুব ভয় পাই ইনজেকশনে তার জন্য ইনজেকশন দিতে চাইনা কখনো আর রক্ত দেওয়া যে কি ভয়ের সেটা আমার থেকে কেউ ভালো বুঝবেনা মেয়েটার মায়ের আহাজারি আমার সেই ভয়কে দূর করে দিলো।
রক্ত দিয়ে অনেকক্ষণ শুয়ে থাকলাম, দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে মাথা চক্কর মেরে পড়ে যাচ্ছিলাম মেয়েটির ভাই এসে আমাকে ধরে ফেলল। আমি ঠিক আছি বলে একটু মুচকি হাসলাম। তার নাম জানতে চাইলাম, সে বলল আমার নাম ইমন আর আমার বোনের নাম চুমকি আপনার নাম কি?
আমার নাম হাসিব আমি উত্তরায় থাকি, তোমাদের বাসা কোথায়, আর তোমার বোনের এই অবস্থা কিভাবে হল।

আমাদের বাসা ঢাকা যাত্রাবাড়ী এখানে আমরা ভাড়া থাকি আমাদের দেশের বাড়ি হল মাগুরা,আমার বোন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে আমি ডিগ্রী ফাইনালে পড়ি। আমার আব্বা ঢাকায় ছোটখাটো একটা ব্যবসা করে, চুমকি মামুন নামের এক ছেলেকে ভালোবাসে শুনলাম সে আমার বোনের সঙ্গে এমন করেছে।

ইমন কান্নায় ভেঙে পড়লো আর কিছু বলতে পারছেনা, আমি বুঝতে পারছি না ভালোবাসার মানুষ কিভাবে এমন করে অত্যাচার করতে পারে তার প্রেমিকার উপর। এতটা অত্যাচার করেছে, মেয়েটিকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌছে দিয়েছে, সে কখনই প্রেমিক না, প্রেমিকরা জানোয়ার হতে পারে না।
আমি কোনমতে রিক্সা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম, আস্তে আস্তে রুমে এসে শুইলাম, আম্মু এসে জানতে চাইলো সকাল থেকে কোথায় ছিলি?
বললাম, রিয়াদের বাবা অসুস্থ হসপিটাল ভর্তি, দেখতে গিয়েছিলাম।

হ্যাঁ দেখতে যাবি বলে যাবিনা, আর তোর ফোন অফ কেন, তোর আব্বু ফোন করেছিল, বললো তোর ফোন অফ। আম্মুকে সাতপাঁচ বুঝিয়ে বলে দিলাম।
রক্ত দিয়েছি এই কথা আম্মুকে বলা যাবেনা, তাহলে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিবে। বলবে এমনিতেই তুই দুইদিন পর পর অসুস্থ থাকিস, ঠিকমতো খাবার খাস না, এমন হাজারো কাহিনি শুনতে হবে আমার আম্মুর। তাই রক্ত দেবার বিষয় গোপন রাখলাম।

রক্ত দেবার কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, তিন দিন অসুস্থ থাকার কারণে হসপিটালে যেতে পারিনি, আজ যখন শরীর একটু ভালো, বিছানা ছেড়ে বেলকনিতে এসে দাঁড়িয়েছি। ইমনের নাম্বার সেভ করে নিয়ে আসছিলাম, কল দিলাম চুমকি কেমন আছে জানতে। ইমন জানালো চুমকি শারীরিক দিক দিয়ে এখন ভালো হলেও মানসিক দিক থেকে একদম ভেঙে পড়ছে। মামুনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, চুমকির ভাষ্যমতে মামুন একা রেপ করেনি, তার সাথে আরো চারজন ছিল, গ্যাং-রেপ করেছে।
চুমকির অপরাধ ছিল সে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে চাননি, মামুন যখন জোর করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে চায়, চুমকি তাকে চড় মেরে চলে আসে। এবং মামুনের সঙ্গে ব্রেকাপ করে দেয়, মামুন অনেক অনুনয় বিনয় করে বারবার সরি বলে চুমকিকে ফেরায়। কিছুদিন ভালো ব্যবহার করে, তারপর চুমকির বিশ্বাস ফিরে আসে মামুনের প্রতি, ঘুরতে যাবার নাম করে মামুন চুমকিকে পার্কে নিয়ে যায়। জুসের সঙ্গে নেশা জাতীয় কিছু মিশিয়ে খাইয়ে অজ্ঞান করা হয়, তারপর এক পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে মামুন সহ আরো চারজন মিলে রেপ করে।
পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আর দুইজন বাকি আছে। আমি চাই প্রেমিক নামের এই প্রতারকের কঠোর শাস্তি হোক।
এখানে বড় ভুল হয়েছে চুমকির, সে মামুনকে দ্বিতীয়বার চান্স দিয়েছে, তার বুঝা উচিত ছিল, যে ছেলে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়, না করার পর জোর করে, সে চড় খেয়ে কিভাবে ভালো হয়। আমার মতে এমন রিলেশন গুলো আমাদের না রাখা বেটার, মেয়েদের সচেতন হতে হবে, এমন প্রেমিক থেকে নিজেকে সরিয়ে আনুন, নাহলে ভুলের মাশুল দিতে হবে সারাজীবন ধরে।

ঘটনার এক মাস পর আমি চুমকিদের বাসায় যাই তাকে দেখতে, তাকে দেখলাম নিরব নির্জীব শরীরে শুধু বেঁচে থাকার প্রয়াসে লড়াই করে যাচ্ছে তার জীবনের কালো অধ্যায় ভুলতে। আমাকে দেখে কৃতজ্ঞতার চোখে তাকালো, আমি তার কাছে গিয়ে একটা কথা বললাম, যে পাপ করেছে সে শাস্তি পাবে, তুমি কেন শাস্তি পাবে, মুছে ফেলো সেই অধ্যায়, বাঁচতে শেখো তোমার প্রয়োজনে, তোমার ফ্যামিলির প্রয়োজনে, একটা ভুল মানুষের জন্য তোমার সুন্দর জীবন নষ্ট করে দিও না।
দেখবে একদিন সব ঠিক হবে তুমি ভালো থাকবে, আর সেই নরপশু সে কখনো ভালো থাকতে পারবেনা, এই দুনিয়ায়ও না আল্লাহর কাছেও না।

সাদমান হাসিব

Santa akter, Rasel islam, Raihan khan, Badol hasan, Rokeya hoq, Sumon khan, Asha islam and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 8
স্বর্ণমুদ্রা : 223
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

ভুল Empty Re: ভুল

Sat Jun 05, 2021 11:10 pm
২য় পর্ব

চুমকির শারীরিক অবস্থা থেকে মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে হবে আগে, তার জন্য দরকার তার ফ্যামিলির প্রচুর হেল্প। চুমকির সঙ্গে যা হয়েছে, এখন যদি সেই কারণে তাকে দোষারোপ করা হয়, মেয়েটি ভেঙে পড়বে। আর এমন অনেক লাঞ্চিত মেয়েই আত্মহত্যার মত জঘন্য পথ বেছে নেয়, শুধু যদি একটু তাদের ফ্যামিলি তাদেরকে এই বুঝাতে সাহায্য করতো তারা তার পাশে আছে, যা হবার হয়েছে সব ভুলে যাও, তাহলে তাদের জীবনও অকালে ঝরে পড়তো না।

আমি চুমকির কাছে বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি, তার চোখ গুলো ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে আছে, তার বেশির ভাগ ভয় এই সমাজের, সমাজের মানুষের কাছে ধর্ষক নয় ধর্ষিতা অপরাধী।
আমি চুমকির মা আর চাচীকে বুঝালাম যে যাই বলুক আপনারা চুমকির পাশে থাকবেন থাকে সাপোর্ট করবেন।
চুমকির চাচী বললো,

আশেপাশের প্রতিবেশীরা অনেকেই চুমকিকে দেখতে আসছে, এসে পুরনো কথা তুলে মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছে, আবার যাবার সময় হেসে হেসে বলে যাচ্ছে মেয়ের দোষ না থাকলে রেপ হতো না, চরিত্রহীন মেয়ে। এই মেয়ের বিয়ে হবেনা, আরো কত কি আড়ালে বলছে।

শুনেন আন্টি যে যা বলুক, কয়দিন পর সব বলা থেমে যাবে, প্লিজ আপনারা এই কথা চুমকিকে বলবেন না, সে সহ্য করতে পারবেনা, দেখবেন অপরাধীরা শাস্তি পাবে, একদিন সব ঠিক হবে, চুমকির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। এখন মানুষের কথা কানে নিয়েন না।
চুমকির মা কান্না করে আমাকে বললো বাবা তুমি আমার মেয়ের জন্য যা করেছ কখনো ভুলবো না তুমি মাঝেমধ্যে আমাদের বাসায় এসো, মনে করবো তুমিও আমার আরেকটা ছেলে। সেদিন চুমকিদের বাসা থেকে দুপুরে খেয়ে আসি, আন্টি জোর করায় খেয়ে আসতে হয়েছে।

তারপর অনেকদিন হলো তাদের বাসায় যাইনি, ফোনে মাঝেমাঝে ইমনের সঙ্গে কথা হয়, আন্টি না কি আমার কথা মনে করে, আমাকে যেতে বলেছে। ভাবছি দুই একদিনের মধ্যে যাবো আন্টির সঙ্গে দেখা করতে।
আসামি চারজন আটক এখন, একজনকে না ধরে পুলিশ টালবাহানা করছে। যে একজনকে পুলিশ ধরেনি, সে প্রভাবশালী সাংসদ সদস্যের ভাতিজা। টাকার কাছে মানুষ এখন কাঙাল, রীতিনীতি সব শেষ, তাই যার টাকা আছে তার সাতখুন মাপ।

রাত্রি অনেকবার কল দিয়েছে ইমনের সাথে কথা বলায় ওয়েটিং পেয়েছে, তাই সে মেসেজ দিয়েছে খুব রেগে গিয়ে, মেসেজের নিম্নরুপ--

কার সাথে বিজি, আগে তো কখনো এমন করোনি, বুঝেছি আমাকে এখন ভালো লাগে না, পুরনো হয়ে গেছি।

দ্বিতীয় মেসেজ... বিশ মিনিট ধরে কার সাথে কথা বলিস কুত্তা, তুই এমন করবি কখনো ভাবিনি, ইচ্ছা করছে তোকে খুন করি। কার সাথে প্রেমালাপ করিস একবার বল, তাকে সহ খুন করবো।

তৃতীয় মেসেজ... এখনো ওয়েটিং আছিস, মরে যাবো আমি, আমাকে আর খুঁজে পাবিনা, এসে আমার লাশ দেখবি, শয়তান কুত্তা বান্দর।

চতুর্থ মেসেজ... হায় আল্লাহ মানুষ এত বেইমান, যাকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলাম সে আমাকে এইভাবে ঠকালো, মরে যাবো আমি।

মেসেজ গুলো দেখে আমি হাসবো না কাঁদবো, ইমনের সাথে কথা বলছি এই মেয়ে একদম পাগল,
কি না কি ভেবে নিয়েছে। রাত্রিকে কল দিলাম, সে ফোন ধরছে না, অনেকবার কল করার পর সে কল ধরে কান্না, কান্নার জন্য তার কথা বুঝতে পারছি না, কান্নারত অবস্থায় কথা বলছে। তাকে বললাম ইমনের সাথে কথা বলছি কোন মেয়ের সঙ্গে কথা বলিনি।
রাত্রি আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছেনা, তাই তাকে বললাম ইমনের বাসায় কাল যাবো, চাইলে তুমি আমার সাথে যেতে পারো।

রাত্রি জানতে চাইল তাকে ইমনের বাসায় কেন নিয়ে যাব আর ইমন কে?
আমি বললাম কাল গেলেই বুঝবে। তুমি তো আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছ না ভাবছো মেয়েদের সাথে কথা বলি, ইমন এর সাথে কথা বলছি তার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল রিয়াদের বাবাকে দেখতে হসপিটালে যখন যাই তখন।
আসলে চুমকির ব্যাপারে রাত্রির সাথে এখনও কিছু বলা হয়নি, যদি বলতাম তাহলে হয়তো সন্দেহ করতো না ইমনের কথা বললে, সেতো এখনো ইমনকে চিনে না। আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে ছিল আম্মু কার সাথে কথা বলছি জানতে চায়। বললাম ফ্রেন্ড, আম্মু জানতে চাইলো ছেলে ফ্রেন্ড না মেয়ে ফ্রেন্ড।
মেয়ে ফ্রেন্ড শুনে কিছুটা থমথমে গলায়, বললো,
তোকে না বলেছি মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ না করতে, আর কিসের এত কথা মেয়েদের সাথে, আর কখনো মেয়েদের সাথে কথা যদি বলিস তোর আব্বুকে বলে দেবো।
আমি জানি আব্বু কিছুই বলবেনা, যা বলার আম্মুই বলে, আম্মু ছোট থেকে কড়া শাসন করে আমাদের দুই ভাইবোনকে মানুষ করছে, আপু আম্মুর ভয়ে প্রেম ভালোবাসা করতে সাহস পায়নি। দুলাভাই আপুকে দেখে প্রেমে পড়ে বছর খানের পিছনে ঘুরে যখন আপুর পাত্তা পাননি তখন দুলাভাইয়ের মা বাবাকে বলে বিয়ের প্রস্তাব দেয় আমাদের বাসায়। আপুর তখন পড়াশোনা শেষ হয় নাই, তাই আম্মু রাজি হতে চাচ্ছিলেন না, আব্বু চাচ্চুরা অনেক বুঝিয়ে আম্মুকে রাজি করায়।
আমিও ভয়ে আছি আমাদের ভালোবাসা নিয়ে, আমার ভালোবাসা কি আম্মু মেনে নিবে, রাত্রিকে তো আমি ভালোবাসি তাকে বিয়ে করতে চাই।

কিরে হাসিব কি ভাবছিস আমার কথা কি তোর কানে যায় না।

কি কথা আম্মু।

কি ভাবনায় ডুবে থাকিস সারাদিন বললাম ইলিশ পোলাও রান্না করেছি তোর আপুকে দিয়ে আস, তারাতাড়ি খেয়ে রেডি হয়ে নে।

রাতের বেলা যেতে বলছো, কই ইলিশ পোলাও খেয়ে আরাম করে শুইবো, তুমি আমাকে আরাম করতে দিবেনা।

বেশি কথা বলবি না উত্তরা থেকে শ্যামলী যেতে তোর আরাম হারিয়ে যাবেনা, সেখানে যেয়ে আরাম আয়েশ করে শুয়ে ঘুমা, তুই ইলিশ পোলাও খাবি আমার মেয়েটা খেতে পারবেনা তুই এটাই চাস, তুই ভাই না কি শত্রু।

খেয়ে রেডি হয়ে আপুর বাসায় যাচ্ছি রাত সাড়ে আটটা বাজে, আপুর বাসায় গেলে রাতে আর আসতে দিবেনা, আমার সেখানে ঘুম হবেনা দুই পিচ্চির জন্য। দুই পিচ্চি দুইপাশে শুয়ে জাপ্টে ধরে ঘুমাবে, একমাত্র মামা বলে কথা, সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই।
রাতে তেমন ঘুম হলো না ভাগ্নে ভাগ্নী আমার সাথে ঘুমাইছে। আপু খুব সকালে সজাগ হয়, আমাকে ডেকে বললো চল হাসিব তোকে নিয়ে হাটতে বের হবো, অনেকদিন তোকে নিয়ে হাটা হয়না।

তুমি দুলাভাইকে নিয়ে যাও আমি ঘুমাবো।

আপু আমার কথা না শুনে টেনে নিয়ে গেল হাটতে, ভালোই লাগছে আপুর সাথে হাটতে, অনেক গল্প করলাম পার্কে বসে, বাসায় এসে আপু নাস্তা রেডি করলো দুলাভাইয়ের সঙ্গে বসে খাইলাম। তারপর বিদায় নিয়ে চলে আসলাম বাসায়, আপু দুপুরে খেয়ে আসতে বলেছিল, আমি জোর করে চলে আসছি কারণ বিকেলে রাত্রিকে নিয়ে ইমনের বাসায় যাবো।

বিকালে রাত্রিকে ফোন দিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে বলে আমি বের হলাম, অটো নিয়ে চুমকিদের বাসায় যেয়ে চুমকির চাচীর কান্নাকাটি শুনতে পেলাম। চাচী চুমকিকে বুঝাচ্ছে,

চুমকি মা তুই আমার মেয়ের কথা ভেবে তোর জবানবন্দি চেঞ্জ কর, তুই শুধু চারজনের কথা বলবি, এমপির ভাতিজার কথা অস্বীকার করবি, মা আমি তোর ছোট হয়ে তোর পায়ে পড়ছি।

চাচী চুমকির পা ধরতে গেল, তখন চুমকি বললো ঠিক আছে তোমরা যা বল তাই হবে।

আমি কিছু বুঝতে পারছি না, কি এমন হলো, আর চাচী তার মেয়ের কথা চুমকিকে ভাবতে বলছে এমপির ভাতিজাকে রক্ষা করতে ব্যাপার কি। রাত্রি কিছু না বুঝে অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে রয়েছে।

চলবে,,,,


সাদমান হাসিব

Santa akter, Sk sagor, Rasel islam, Raihan khan, Badol hasan, Rokeya hoq, Sumon khan and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 8
স্বর্ণমুদ্রা : 223
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

ভুল Empty Re: ভুল

Sat Jun 05, 2021 11:11 pm
শেষ, পর্ব

চুমকি মা তুই আমার মেয়ের কথা ভেবে তোর জবানবন্দি চেঞ্জ কর, তুই শুধু চারজনের কথা বলবি, এমপির ভাতিজার কথা অস্বীকার করবি, মা আমি তোর ছোট হয়ে তোর পায়ে পড়ছি।

চাচী চুমকির পা ধরতে গেল, তখন চুমকি বললো ঠিক আছে তোমরা যা বল তাই হবে।

আমি কিছু বুঝতে পারছি না, কি এমন হলো, আর চাচী তার মেয়ের কথা চুমকিকে ভাবতে বলছে এমপির ভাতিজাকে রক্ষা করতে ব্যাপার কি। রাত্রি কিছু না বুঝে অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে রয়েছে।

তাদের এই অবস্থা দেখে জানতে চাইলাম কি হয়েছে চাচা বলেন চাচী কেন চুমকির পা ধরে আর চুমকিই এমন অদ্ভুত আচরণ কেন করছে। চাচা কেঁদে দিল আর বলো না বাবা টাকার কাছে পৃথিবী এখন অচল মানুষের কোন ইমান ধর্ম নেই যার টাকা আছে তারই শক্তি। কাল সংসদ সদস্য গাফফার আহমেদ সদলবলে আমাদের বাসায় আসে হুমকি দেয় তার ভাতিজার নামে যদি অভিযোগ তুলে নেওয়া না হলে শ্রাবণীকে চুমকি মত হতে হবে, এখন কি করবো বলো।

আমি চাচাকে কি বলে সান্তনা দিব বুঝতে পারছি না মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, একজন ধর্ষককে বাঁচাতে আসে আবার হুমকি দেয় আরেক মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে। যে লোকটা এত বড় জঘন্য কাজটা করতে পারলো তার কি মেয়ে নেই আর যদি মেয়ে না থাকে তারও তো মা ছিল সে তো একটা নারীর সন্তান। কিভাবে পারলো এমন অন্যায় করতে। সেদিন আমি আর চুমকিদের বাসায় বেশিক্ষণ থাকিনি রাত্রিকে নিয়ে চলে আসছি। কি বলবো প্রভাব-প্রতিপত্তি যার হাতে শক্তি তারই। কয়েকদিন পর মামলা আদালতে উঠলো, চুমকি তার নিজস্ব জবানবন্দিতে বলল, এমপির ভাতিজা বেলাল চৌধুরী তাকে রেপ করার সময় ছিল না অন্য একজজন ছিল ভুলবশত সে বেলালের নাম বলে ফেলছে এমপি সাহেবের ভাতিজা বেলাল চৌধুরীর ছিলনা ভুলবশত বলে দিয়েছে। বিপক্ষ উকিল এই নিয়ে ভরা আদালতে চুমকিকে দুশ্চরিত্রা বললে আখ্যা দিলো বলল টাকাওয়ালা ছেলে দেখে তাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল মেয়েটা চক্রান্তবাদী। আরো অনেক কথা বলব সবার সামনে। বাসায় আসার পর চুমকি ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল সবাই খুব ব্যস্ত হয়ে ডাকাডাকি করছে কিন্তু চুমকি দরজা খুলছে না। দিগ্বিদিক হয়ে ইমন ও তার চাচা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করুন করল। চুমকি ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছে। কোনভাবে তাকে ধরে নামিয়ে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হল, ইমন আমাকে ফোন করেছে আমি তড়িঘড়ি করে হসপিটালে আসলাম। ডাক্তার বলছে চুমকির অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক গলায় খুব জোরে আঘাত পেয়েছে। অক্সিজেন মাক্স পড়িয়ে রাখা হয়েছে চুমকিকে। আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম পুরো মুখ কালো হয়ে গেছে মনে হচ্ছে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ, আর দুই এক মিনিট পরে গেলে হয়তো তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যেত। অপরাধ না করেও মেয়েটা অপরাধী, সমাজের চোখে খারাপ। সে তার চাচাতো বোনকে বাঁচাতে ওই হায়েনারকে মুক্ত করে দিল তার বিনিময়ে সে নিজেই চরিত্রহীন আখ্যা মাথায় তুলে নিল। ধিক্কার এই সমাজের কিছু মানুষকে যারা নিজ স্বার্থে এমন অসহায় মানুষদের মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়। হাসপাতলে বারোদিন পর ডাক্তার চুমকিকে রিলিজ করে দিলো, আর বলে দিলো চুমকিকে মানসিক ডাক্তার দেখাতে। চুমকির এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে সে এখনো পূর্বের কথা মনে করতে পারছেনা শুধু চুপচাপ চারদিক তাকিয়ে আছে আর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। চুমকিকে বাসায় নিয়ে আসা হল হসপিটাল থেকে তারপর তাকে মানসিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করানো হলো কিন্তু কিছুই হলো না ডাক্তার বলল বড় কোন আঘাতে তার মানসিক অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছ। এখন যদি সৃষ্টিকর্তার দয়ায় ভালো হয় আমাদের কিছু করার নেই। তারপর অনেক দিন চলে গেল চুমকি আগের মত স্বাভাবিক হতে পারল না মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় পাগল অবস্থায় জীবন যাপন করছে তার সাক্ষী প্রমাণের জন্য আদালতের রায়ে ওই চারজন বেকসুর খালাস পেয়ে গেল। পাপ করে তারা পাপের শাস্তি পেল না চুমকি সে শাস্তি পাচ্ছে।

অনেকদিন চলে গেলো, এখন সাংবাদিকতা পেশায় জব করার দরুন তেমন সময় পাইনা চুমকির খুঁজ খবর নিতে। রাত্রিকে বিয়ে করেছি অনেক ঝড় ঝামেলা পোহায়ে, আমাদের একমাত্র ছেলে হিসাম বয়স দুই বছর। সেদিন কাওরান বাজার থেকে রিপোর্ট করে ফিরছিলাম দেখলাম রাস্তার মধ্যে একজনকে ধরে পিটাচ্ছে কিছু লোক আর সবাই চারপাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে তামাশা দেখছে। আমি দৌড়ে ছাড়াতে গেলাম, জানতে পারলাম পকেট মারার দায়ে পিটানো হচ্ছে। যাকে পিটানো হচ্ছে তাকে আমার চেনা চেনা লাগছে, নাম জিজ্ঞেস করলাম। সে বললো তার নাম মামুন কিছুদিন আগে প্যারালাইজড হয়ে যায় এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য নিচ্ছে, কে না কে পকেট মারছে লোকজন তাকে মিথ্যা অপবাদে মারছেতার অবস্থার খুব অবনতি। আল্লাহ তার শাস্তি দিচ্ছে, কাউকেই ছাড় দেয়না আল্লাহ, আর যে এমপি টাকার গৌরবে যা খুশি তাই করতে পারছে এখন তার দল ক্ষমতায় নেই সে অনেকগুলো মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে আছে।
আমার ইচ্ছা হলো চুমকিদের বাসায় যেতে, ছুটির দিনে রাত্রি আর ছেলেকে নিয়ে চুমকিকে দেখতে গেলাম।
প্রায় চার বছর পর চুমকিকে দেখলাম, এতদিন পরেও চুমকি আমাকে দেখে ভাইয়া বলে ডাক দিল, সে আমাকে মনে রাখছে। কিন্তু সে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি।
খুব আফসোস হচ্ছে আমাদের সমাজের কিছু প্রভাবশালী মানুষের কারণে আজ চুমকির মত হাজারো মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আমরা কেউ তার খবর রাখিনা, আমরা অন্যায়কারীকে নয় যার সাথে অন্যায় হয় তাকে অপরাধী ভাবি, আমাদের এই মন মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

সমাপ্ত

সাদমান হাসিব

Ahmed Chanchal, Santa akter, Sk sagor, Rasel islam, Raihan khan, Badol hasan, Rokeya hoq and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum