সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 8
স্বর্ণমুদ্রা : 152
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

ডার্ক ফরেস্ট হাউজ Empty ডার্ক ফরেস্ট হাউজ

Sat Jun 05, 2021 11:39 pm
তুর্জয় শাকিল

এক.

ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠলো ফোনটা ।
আড়মোড়া দিয়ে ঘুম থেকে উঠলো পাবন । হাই তুলতে তুলতেই ফোনটা রিসিভ করলো ও ।
- হ্যালো
- তুমি কি পাবন ?
- হ্যা, আপনি কে ?
- আমি হ্যারি । ডেইন গ্রাম থেকে বলছি । তুমি আমাকে চিনবে না । খুব বিপদে পড়ে তোমাকে ফোন দিয়েছি ।
- কি বিপদ !! কি হয়েছে ?
- ফোনে বলা যাবে না । ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি ; যত দ্রুত পারো চলে আসো ।
- আচ্ছা ।

কথা শেষ করে পাবন রুম থেকে বেরিয়ে আসলো ।
শীত শীত অনুভূত হচ্ছে । হালকা কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশে । নাস্তা শেষে ও জয়, শুভ আর অরকিয়াকে ফোন দিল । দশ মিনিট পর ওরা এসে পৌঁছালো ।
- কিরে , কি হয়েছে ? এত জরুরী তলব কেন ?
- ডেইন গ্রামে যেতে হবে । শহর ছেড়ে ৫০ কি.মি. দূরে ।
- কেন ?
- একটা লোক ফোন দিয়েছিলো সকালে । বলল খুব বিপদে পড়েছে ।
- লোকটা বলল আর তুইও যেতে রাজি হয়ে গেলি !! এটা আমাদের জন্য কোন ফাঁদও তো হতে পারে, শুভ বলল ।
- হ্যা, শুভ কিন্তু ঠিক বলেছে পাবন , জয়ও ওর কথায় সায় দিল ।
- কিন্তু লোকটার কথা শুনে মনে হল সত্যিই সে বিপদে পড়েছে । আর ওখানে না গেলে বুঝতেও পারবো না আসল ঘটনাটা কি ।
- পাবন যখন বলেছে যাবে তখন ও যাবেই । আমরা না গেলেও ও যাবে । সুতরাং আমাদের যেতেই হবে , অরকিয়া বলল ।
ওর কথা শুনে পাবন হেসে বলল," তোরা বাড়ি গিয়ে রেডী হয়ে সোজা রেলষ্টশনে চলে আসবি । আমি ওখানেই থাকবো ।"
জয়, শুভ, অরকিয়া বাড়ি চলে গেল ।

ঘন্টাখানেক পর ওরা রেলষ্টেশনে পৌঁছালো । পাবন আগেই টিকেট কেটে রেখেছিল । একটু পরই ট্রেন আসলো । যে যার সিটে গিয়ে বসলো ওরা । শুভ আর অরকিয়ার সিট ছিল পাশাপাশি ।
হঠাৎ ই শুভ নাক সিটঁকে বলল," কি সব সস্তা পারফিম দিস !! গন্ধে বসে থাকতেই পারছি না ।
অরকিয়া রেগে বলল,"কি বললি, আমার পারফিউম সস্তা । আরে তুই তো জীবনে এরকম পারফিউম চোখেও দেখিস নি তাই হিংসা করছিস ।"
শুভ রেগে কি যেন বলতে যাচ্ছিল তখনই জয় ওদের মাঝখানে এসে বলল," ঝগড়া থামা তোরা । শুভ যা তুই পাবনের পাশে গিয়ে বস । আমি এখানে বসছি ।"
শুভ ওর ব্যাগ নিয়ে পাবনের পাশে গিয়ে বসলো । অরকিয়া সেদিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটলো । পাবন কিছু না বলে শুধু মুচকি হাসলো ।
ঘন্টা দুয়েক পর ট্রেন থামলো । ট্রেন থেকে নেমে পাবন ফোন বুথ থেকে হ্যারিকে ফোন দিয়ে জানালো ওরা এসে পৌঁছেছে । কিছুক্ষণপর হ্যারি আসলো ।
ওদেরকে দেখে হাসিমুখে বলল,"কেমন আছো তোমরা ? আসো আমার সাথে।"
পাবন ওকে থামিয়ে ধীরকন্ঠে বলল,"কিছু প্রশ্ন ছিল ।"
- হ্যা বলো কি জানতে চাও?
- তুমি আমাদের পরিচয় জানলে কি করে?
- ও, এই কথা । এখানকার পুলিশ ইন্সপেক্টরই জানালেন তোমাদের কথা ।
- ইন্সপেক্টর !! অবাক হল শুভ ।
- আমরা তাহলে প্রথমে থানাতে যেতে চাই ।
হ্যারি হেসে বলল,"ঠিক আছে, চল তাহলে আগে থানায় যাই ।"
রেলষ্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে ওরা থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল । ইন্সপেক্টর ওদের দেখে খুব খুশি হল ।
বলল,"আমি মিষ্টার মিক । শাকিল সাহেবের পরিচিত । তিনিই তোমাদের কথা বলেছিলেন আমাকে । তোমরা রহস্য খুব পছন্দ কর । হ্যারির কেইসটা একটু গুরুতর । আর ওদের গ্রামটাও একটু দূরে । তদন্ত করাটা আমাদের জন্য একটু কষ্টকর । তোমরা যদি সাহায্য করো তাহলে কাজটা আমাদের জন্য সহজ হয় আরকি । তাছাড়া তোমরাও রহস্যের সাথে থাকতে পারবে কিছুদিন ।
- সমস্যা নেই আমরা সাহায্য করবো । কিন্তু বিপদটা কি ? পাবন জিজ্ঞাসা করলো ।
- ডেইন গ্রামে বেশ কিছুদিন আগে তিন জন লোক হঠাৎ ই উধাও হয়ে যায় । অনেক খুজেঁও ওদের কোন হদিস পাই নি আমরা ।
- ও আচ্ছা । চল হ্যারি আমরা তাহলে গ্রামের দিকেই যাই,জয় বলল ।
ইন্সপেক্টরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওরা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল ।

ঘন্টাখানেক পর ওরা ডেইন গ্রামে পৌঁছালো । গাড়ি থেকে নামলো সবাই । হ্যারি বলল,"এই গ্রামটা আধুনিকতার ছঁয়ার বাহিরে । এখানে ইলেকট্রিসিটি নেই ; লন্ঠন বা মশালেই রাতে আলোর ব্যবস্থা করা হয় । গ্রামের চারপাশে ঘন জঙ্গলে ঘিরে আছে । মানুষজনও খুব সহজ সরল । ঘরবাড়ি রাস্তা সবকিছুই মাটির তৈরী",কথা বলতে বলতে ওরা গ্রামের ভিতর ঢুকে পড়লো ।

রাস্তা দুপাশে সাজানো বাগান , ক্ষেত । মাটির ঘরগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন কোন শিল্পী সুনিপুণ হাতে তার শিল্পকর্ম একেঁছেন ।
"ওয়াও !! এত সুন্দর গ্রাম !! অরকিয়া বলল ।
"দিনের বেলাতেই এই গ্রাম অনেক সুন্দর কিন্তু রাতের বেলাতে যেন মৃত্যুপুরী হয়ে যায় । মানুষ বলে অতৃপ্ত আত্মারা নাকি রাতের বেলাতে গ্রামময় ঘুরে বেড়ায় । হয়তো মানুষগুলোর নিখোঁজ হওয়ার সাথে আত্মাদের কোন সম্পর্ক আছে এমনটাই মনে করে এখানকার মানুষ",হ্যারি বলল ।
"খাইছে, তার মানে আমাদের এবার আত্মা মোকাবেলা করতে হবে !! শুভ বলল ।

চলবে.....

Badol hasan, Mr faruk, Rokeya hoq, Sumon khan, Abir nill, Rohan Ahmed, Limon talukder and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 8
স্বর্ণমুদ্রা : 152
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

ডার্ক ফরেস্ট হাউজ Empty Re: ডার্ক ফরেস্ট হাউজ

Sat Jun 05, 2021 11:41 pm
দুই.

হ্যারি ওদের একটা মাটির ঘরে নিয়ে গেল । ঘরের পিছনেই ঘন জঙ্গল । ঘরে দুইটি কক্ষ । দুই কক্ষেই বিছানা পাতা আছে । দুটো টেবিলও আছে । "তোমরা এখানেই থাকবে । মিয়াং তোমাদের খাবার সময়মতো এসে দিয়ে যাবে । আর কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবে । এখন তোমরা বিশ্রাম নেও । আমি বিকালে এসে তোমাদের সাথে কথা বলবো", হ্যারি চলে গেল ।
"সবাই একটু বিশ্রাম নিয়ে নে এখন । বিকালের দিকে গ্রামটা একটু ঘুরে দেখতে হবে", পাবন বলল ।
বিকাল বেলা ওরা গ্রাম দেখতে বের হল ; হ্যারি আর মিয়াংও ওদের সঙ্গী হল । আয়তনে গ্রামটা খুবই ছোট । লোকজন সবমিলিয়ে শ’খানেক হবে । চারপাশে জঙ্গল এমনভাবে ঘিরে আছে মনে হয় যেন বিশাল বনসমুদ্রের মাঝে ছোট একখন্ড দ্বীপ এই গ্রাম ।
- এই জঙ্গলে কি কোন হিংস্র প্রাণী নেই ? অরকিয়া জিজ্ঞাসা করলো ।
- তা তো আছেই । নেকড়ে , হায়েনা , সিংহ সবই আছে, হ্যারি উত্তর দিল ।
- কি বললে নেকড়ে , হায়েনা , সিংহ সব আছে !! তাহলে এখানে থাকেন কি করে মানুষজন ? ওরা আক্রমণ করে না ? জয় অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো ।
- না , বন কর্মকর্তারা জঙ্গলের এরিয়ার বাহিরে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে দিয়েছে । হিংস্র প্রাণীগুলো এই এরিয়াতে আসতে পারে না , হ্যারি বলল ।
সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে । একটু পর গভীর অরণ্যের আড়ালে ডুব দিল সূর্যটা । চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে লাগলো ।
মিয়াং বলল," বাবু সন্ধ্যা হয়ে গেছে । এখন বাড়ির বাহিরে থাকাটা ঠিক হবে না ।"
"হুম , ঠিক বলেছো । চল ফিরে যাই", হ্যারি বলল ।
ওরা দ্রুত ফিরে আসলো মাটির ঘরে । হ্যারিও ওর বাড়ি চলে গেল ।
- আচ্ছা , মিয়াং সন্ধ্যার পর এখানে বাড়ির বাহিরে থাকা বিপদজনক নাকি ? পাবন জিজ্ঞাসা করলো ।
- আসলে বাবু জানেনই তো তিনজন লোক নিখোঁজ হয়েছে দুইদিন আগে । গ্রামের লোকজন ভাবছে এই সবই আত্মাদের কারসাজি । কোন কারণে হয়তো ওরা রুষ্ট হয়েছে ডেইন গ্রামের উপর । তাই গ্রামের সবাই খুব আতংকে আছে । এজন্য অন্ধকার নামতেই সবাই যার যার ঘরে ফিরে আসে ।
- কিন্তু তিনজন নিখোঁজ হওয়ার পিছনে আত্মাদের দায়ী করবে কেন গ্রামবাসীরা ? শুভ জিজ্ঞাসা করলো ।
- এই ডেইন গ্রামটা অনেক পুরানো । এর ইতিহাসও অনেক পুরানো । এখানে ভৌতিক বিশ্বাসটা বেশি ।
- ও আচ্ছা , ঘাড় নাড়লো শুভ ।
- আমি এখন যাই বাবু । আপনাদের রাতের খাবার দেওয়া হয়েছে ।
- কি কি আছে মেন্যুতে ? শুভ জিজ্ঞাসা করলো ।
- কর্নিশ পাখির মাংস ভূনা আর এখানকার স্পেশাল ব্রেট ।
- কর্নিশ পাখি !! এরকম পাখির নাম তো আগে শুনি নি , অবাক হল জয় ।
- এটা একটা বন্য পাখি । খেতে খুব সুস্বাদু । অতিথি আপ্যায়নে এখানে এটাই বহুল পরিচিত পাখি ।
- আচ্ছা তাহলে তো খেয়ে দেখতেই হয় , শুভ বলল ।
- আচ্ছা আপনারা খেয়ে নেন তাহলে । আমি গেলাম । সকালে আসবো ,হেসে চলে গেল মিয়াং ।
মিয়াং যেতেই অরকিয়া শুভর চুল টেনে বলল,"তোর সারাদিন খালি খাই খাই । মিয়াং কি ভাববে বল তো । "
"কি আবার ভাববে । ক্ষুধা লাগছে , খাবোই তো । তোর ইচ্ছে হলে না খেয়ে থাক । আমি এখনই খাবো, বলেই শুভ ছুটে গিয়ে বক্স থেকে মাংস আর রুটি বের করলো ।
মাংসের ঘ্রাণ পেয়ে ছুটে আসলো জয় আর পাবন । অরকিয়া তখনও দাড়িঁয়ে রইলো । ওরা তিনজন রুটি ছিড়েঁ মাংস দিয়ে খেতে শুরু করলো । শুভ অরকিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো । অরকিয়া ধীর পায়ে ওদের পাশে এসে দাড়াঁলো । কিন্তু শুভ ওকে বসতে জায়গা দিল না । অরকিয়া আবার ওর চুল টেনে ধরলো ।
"আরে চুল ছাড় ; বসতে জায়গা দিচ্ছি", হেসে বলল শুভ ।
একসাথে খেয়ে উঠলো ওরা ।
"খাবারটা বেশ হেয়েছে । মানতেই হবে কর্নিশ পাখির মাংস খুব সুস্বাদু",অরকিয়া বলল ।
"সেজন্যই তো খাবি না বলে সবচেয়ে বেশি গিললি ",শুভ টিপ্পনী কাটলো । অরকিয়া চোখ লাল করে ওর দিকে তাকালো । পাবন আর জয় ওদের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো ।
রাত আস্তে আস্তে গভীর হতে লাগলো । চাঁদটা ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশময় । জয় আর শুভ ঘুমাচ্ছে । পাবন জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে নিখোঁজ মানুষগুলোর কথা । হঠাৎ ও জানালা দিয়ে দেখলো বাহিরে উঠানে একটা মেয়ে হাটঁছে ; চুলগুলো খোলা , এলোমেলো । পাবন শুভ আর জয়কে ঘুম থেকে ডেকে তুলল । ওরাও দেখলো মেয়েটাকে । ধীরপায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো তিনজন । শুভ একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে কয়েক মুহূর্ত মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থেকে আচমকাই চুল টেনে ধরলো ওর । চেচিঁয়ে উঠলো অরকিয়া ।
"এত রাতে এখানে কি করছিস তুই !! রেগে গেল শুভ ।
"আমি আসলে তোকে ভুত সেজে জানালা দিয়ে ভয় দেখানোর জন্য এখানে আসছি" , খানিকটা ভড়কে গেছে অরকিয়া ।
"তোর কি মাথা ঠিক আছে !! এই অন্ধকারে…… পাবন কথা শেষ করার আগেই জয়ের ইশারায় থেমে গেল ও । জয় জঙ্গলের দিকে আঙ্গুল তুলে কিছু দেখালো । সেদিকে তাকিয়ে ওরা দেখলো সাদা কিছু একটা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে । ওরা দ্রুত অন্ধকারের দিকে সরে গেল । চাঁদের আলোতে ওরা দেখলো সাদা কোন মানবমূর্তি হেটেঁ এদিকেই আসছে । তবে অন্ধকারে চেহারা ভালো করে বুঝা যাচ্ছে না । হঠাৎ মুহূর্তের মধ্যেই সাদা মূর্তিটা ভয়ংকর নেকড়েতে রূপান্তর হয়ে গেল । তার চোখ দুটি অন্ধকারেও লাল টকটকে দেখা যাচ্ছে ।
পাবন, জয়, শুভ আর অরকিয়া আতংকিত দৃষ্টিতে নেকড়েটার দিকে তাকিয়ে রইলো ।

চলবে.......

Rokeya hoq, Sumon khan, Abir nill, Rohan Ahmed, Limon talukder, Nowrin talukdar, Nera akter and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 8
স্বর্ণমুদ্রা : 152
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

ডার্ক ফরেস্ট হাউজ Empty Re: ডার্ক ফরেস্ট হাউজ

Sat Jun 05, 2021 11:42 pm
তিন.

নেকড়েটার মুখ থেকে ভয়ংকর গড় গড় শব্দ ভেসে আসছে । পাবনের ইশারায় ওরা অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে ধীরে ধীরে পিছাতে লাগলো । কোনরকমে হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকলো সবাই । দরজায় খিল তুলে দিয়ে ওরা জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো নেকড়েটা জঙ্গলের দিকে ফিরে যাচ্ছে ।
শুভ তখন রেগে অরকিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,"এই মাঝরাতে তুই আমাকে ভয় দেখাতে একা বাহিরে গেলি কি করে !! দেখলি আর অল্পের জন্য কত বড় বিপদের হাত থেকে বাচঁলি !!"
পাবনও মুখ গম্ভীর করে বলল,"তোর এই কাজটা করা ঠিক হয় নি । আমরা গ্রামবাসীদের বিপদের হাত থেকে বাচাঁতে এসেছি । তাদেরকে বিপদে ফেলতে আসি নি । যা , নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড় ।"
অরকিয়া মুখ কালো করে নিজের রুমে চলে গেল ।
অরকিয়া যেতেই জয় বলল,"হ্যারি তো বলেছিল বন কর্মকর্তারা জঙ্গলের এরিয়ার বাহিরে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে দিয়েছে । হিংস্র প্রাণীগুলো এই এরিয়াতে আসতে পারে না । তাহলে এই নেকড়েটা এখানে আসলো কি করে?
" আমিও সেটা ভাবছি । তবে নেকড়েটা কিন্তু প্রথমে সাদা মূর্তির আকারে ছিল !! হঠাৎই চোখের পলকে নেকড়েতে পরিণত হওয়ার বিষয়টা আমার বুক কাপিঁয়ে দিয়েছিল",আতংকিত কন্ঠে বলল শুভ ।
"তাহলে কি সত্যিই এই ডেইন গ্রাম আত্মাদের কবলে পড়েছে !! পাবন বিড় বিড় করে বলল ।
"আমারও তাই মনে হচ্ছে", জয় বলল ।
"দেখি কাল সকালে হ্যারির সাথে এই বিষয়ে কথা বলে কিছু জানা যায় কি না । এখন ঘুমা । সকাল প্রায় হতে চলল", পাবন বলল ।
জয় আর শুভ শুয়ে পড়লো ।
কারো জোরশব্দের কথা শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল পাবনের । সকাল হয়েছে । জানালা দিয়ে সকালের আলো ঘরে ঢুকছে । দরজা খুলে ও দেখলো উঠানে বেশ কিছু লোকজন কথা বলছে । হ্যারি আর মিয়াংও আছে এখানে । ও এগিয়ে আসলো ।
ওদের কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারলো শহর থেকে একজন ব্যবসায়ী জঙ্গলের কাছে কয়েক একর জমি কিনতে এসেছে ; আর সাথে দুইজন বন কর্মকর্তাও এসেছেন । ব্যবসায়ীর নাম এন্ড্রু পল ।
হ্যারি বলল," কিছুদিন আগে এখান থেকে তিনজন লোক অদ্ভুতভাবে হারিয়ে গেছে । গ্রামবাসীরা ভাবছে এগুলো সব আত্মারা রুষ্ট হয়ে করছে । এর মধ্যে আপনারা নতুন কোন ঝামেলা করবেন না । পরে আমাদের আরও ক্ষতি হবে ।"
এন্ড্রু পল হেসে বলল," এই যুগে আত্মা বিশ্বাস করো তোমরা !! তোমাদের ফালতু কথা শুনে আমি আমার এতবড় প্রজেক্ট হাতছাড়া করবো না কি । আমি এখানে টুরিস্ট হাউজ তৈরীর প্ল্যান করেছি । তোমরা তোমাদের কাজ করো ; আমাকে আমার কাজ করতে দেও ।" হ্যারি আর কিছু বলল না । এন্ড্রু পল বন কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গলের দিকে চলে গেলেন ।
পাবন হ্যারিকে বলল,"আসলে আত্মাদের প্রতি এখন আর কারো বিশ্বাস নেই । আর তিনি যদি এখানে টুরিস্ট হাউজ করেন তাহলে এই ডেইন গ্রামও রাতারাতি উন্নত হয়ে যাবে । এতে আপনাদেরই লাভ হবে ।"
- সব ঠিক আছে । তারপরও কেন যেন দুশ্চিন্তা হচ্ছে ।
- আপনি হয়তো অহেতুকই দুশ্চিন্তা করছেন । সব ঠিক হয়ে যাবে ।
- ঠিক হলেই ভালো , হ্যারি উত্তর দিল ।
- আচ্ছা এমন কি হতে পারে যে নিখোঁজ লোকগুলো কোন কারণে জঙ্গলের বিপদজনক এরিয়াতে গিয়েছিল আর হিংস্র প্রাণীদের আক্রমণে মারা গেছে ।
- না তারা কেউ কম বয়সী নয় ; সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক । শুধু শুধুই রিস্ক নিয়ে জঙ্গলে যাওয়ার মত নির্বোধ ছিল না ওরা । সেজন্যই তো দুশ্চিন্তাটা বেশি, হ্যারি বলল ।
পাবন কাল রাতের ঘটনাটা বলতে গিয়েও বলল না । হ্যারি এমনিতেই দুশ্চিন্তায় আছে । ওর দুশ্চিন্তা আর বাড়াতে চাইলো না পাবন । ঠিক আছে বলে ও ঘরে চলে আসলো ।
সকালের নাস্তা শেষে ওরা চারজন জঙ্গলের দিকে হাটঁতে বের হল । কাল রাতে নেকড়েটাকে যেখানে দেখেছিল সেই পথে ওরা জঙ্গলের ভিতর ঢুকলো । কিছুটা দূরেই কাটাঁ তারের বেড়া দেওয়া ।
- এই পর্যন্তই ডেইন গ্রামের এরিয়া । আর তো যাওয়া যাবে না । ঐ নেকড়েটা আসলো কোথা থেকে তাহলে ? শুভ জিজ্ঞাসা করলো ।
- আমার কাছে বিষয়টা এখন সত্যিই ভুতূরে মনে হচ্ছে, অরকিয়া বলল ।
- আগে পুরো বিষয়টা …. কথা শেষ করতে পারলো না পাবন ।
পিছন থেকে কে যেন ডাক দিল ওদের ,
- এই যে ছেলেরা , কি করছো এখানে তোমরা?
ডাক শুনে ওরা পিছনে তাকিয়ে দেখলো এন্ড্রু পল ওদের দিকে তাকিয়ে আছে ।
- একটা মেয়েও আছে দেখছি । কি করছো এখানে ? তোমরা কি এই গ্রামের ? আবার জিজ্ঞাসা করলেন পল ।
- না , আমরা এই গ্রামের নই । আমরা হ্যারির অতিথি । এমনি জঙ্গলে হাটঁতে এসেছি, পাবন উত্তর দিল ।
- ওহ আচ্ছা , ঠিক আছে হাটোঁ কিন্তু কাটাঁ তারের বেড়া টপকে ঐপাশে যেও না , তাহলে বিপদে পড়বে ।
- জানি আমরা ধন্যবাদ আপনাকে , হেসে বলল পাবন ।
এন্ড্রু পল চলে গেলেন । নিজের এরিয়ার গাছগুলো লোক দিয়ে কাটাচ্ছেন তিনি ।
দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম নেওয়ার সময় পাবন বলল,
- তদন্তের তো কোন অগ্রগতিই হচ্ছে না ।
- আমার কাছে এইবারের কেইসটা খুব জটিল লাগছে । কোন সূত্রই নেই, জয় বলল ।
- হ্যারির সাথে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে এই বিষয়ে , শুভ বলল ।
- আমারও তাই মনে হয়,ওর সাথে গলা মিলালো অরকিয়া ।
পাবন কিছু না বলে উদাস দৃষ্টিতে জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে রইলো ।
বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হল । ধীরে ধীরে অন্ধকার ঘনিয়ে আসলো ডেইন গ্রামে । রাত গভীর হল । আকাশে চাঁদ ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে । শুভ আর জয় ঘুমাচ্ছে । পাবন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ভাবছে কাল রাতের ঘটনাটা নিয়ে । হঠাৎ ওর কানে ভেসে আসলো আগের রাতে শোনা সেই গড় গড় শব্দ । ও জানালা দিয়ে বাহির তাকিয়ে দেখলো নেকড়েটা জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে । পাবন দ্রুত দরজা খুলে বাহিরে এসে নেকড়েটার পিছু নিল ।
নেকড়েটা হাটঁছে । পাবন সন্তপর্ণে নেকড়ের পিছনে হাটাঁ শুরু করলো । তারের বেড়ার সামনে এসে নেকড়েটা মুহূর্তের মধ্যেই সাদা একটা মানবমূর্তিতে পরিণত হয়ে গেল । চোখের পলকেই বেড়ার ওপাশে চলে গেল মূর্তিটা । পাবন সাত পাঁচ না ভেবে তার দুটো ফাঁক করে অনেক কসরত করে কাটাঁ তারের বেড়া পাড় হল । সাদা মূর্তিটা বড় বড় গাছপালার ফাঁক দিয়ে সামনের দিকে হাটঁছে । হঠাৎই উধাও হয়ে গেল যেন মূর্তিটা । পাবন কিছুটা ভড়কে গেল । আশেপাশে কোথাও মূর্তিটাকে দেখতে পেল না আর । তবে সাহস নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল । বড় বড় গাছ আর ঝোঁপঝাড়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে খোলা একটা জায়গায় এসে পড়লো ও । চাঁদের আলোতে সামনে দেখতে পেল অনেক পুরানো একটা ফরেস্ট হাউজ । ও ধীর পায়ে এগিয়ে গেল । ফরেস্ট হাউজের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো দরজার সামনে কিছু একটা ঝুলছে । আরও একটু সামনে এগিয়ে গেল ও ।
ভালো করে তাকিয়ে চাঁদের আলোতে পাবন স্পষ্ট দেখতে পেল এন্ড্রু পল দরজার সামনে মোটা একটা দড়িতে ঝুলছে ।
তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে ।

চলবে.....

Badol hasan, Mr faruk, Rokeya hoq, Sumon khan, Abir nill, Rohan Ahmed, Limon talukder and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum