সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 3
স্বর্ণমুদ্রা : 243
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-05
View user profile

২১২৪ সাল Empty ২১২৪ সাল

Sun Jun 06, 2021 12:16 am
কম্পিউটার সুত্রো, আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলল। ওমেগা-২৭৩ গোষ্ঠীর কম্পিউটার। প্রচণ্ড কার্যক্ষমতাসম্পন্ন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কম্পিউটারগুলোর একটি, যেটি আমাদের মহাকাশযান সিএক্স-৩ এর সব দায়িত্ব পালনে রত। কম্পিউটারটি আমাকে জাগিয়ে বলল, 'মি অপূর্ব, শুভ জাগরণ। আশা করি আপনি চমৎকার ও আরামদায়ক ঘুম থেকে উঠেছেন।' আমি বললাম, 'ঠিকই বলেছ সুত্রো; আমাদের মহাকাশযানের শীতল ঘরটি খুব আরামদায়ক। আমাকে ভালোভাবে ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করায় তোমাকে ধন্যবাদ।' ২৯ জানুয়ারি, ২০৯৮ সালে আমার প্রিয় চিরসবুজ পৃথিবীটাকে ছেড়ে আমি মাত্র আটজন সহকর্মী নিয়ে পৃথিবী থেকে ১৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত নক্ষত্র এএম-৭২১ এর দিকে রওনা হয়েছিলাম। সহকর্মীদের প্রধান আমার বোন, এবং সহকারী প্রধান আমি। আটজন সহকর্মীর মধ্যে মেয়ে একজন। আমার দিদি। অর্থাৎ সবার দিদি। সবাই প্রচণ্ড মেধাবী। আমার সহকর্মীরা শীতল ঘরে রাখা অন্যান্য ক্যাপসুলে ঘুমিয়ে রয়েছে। কম্পিউটার সুত্রো প্রত্যেককেই এক এক করে জাগিয়ে তুলছে। ঘুম থেকে ওঠার পর সবাই আমরা ধীরে ধীরে ধাতস্থ হলাম। দ্বীপ আমাকে জিজ্ঞেস করল, 'কী হে মহাশয়? আর কদ্দূর বাকি?' তার কথায় সবাই হেসে উঠল। দিদি সুত্রোকে জিজ্ঞেস করল, 'আর কত দূর বাকি সুত্রো?' সুত্রো বলল, 'আর মাত্র ০.০৫ আলোকবর্ষ। এক সপ্তাহের বেশি লাগার কথা নয়।'
২০৯২ সালে ঘটনার সূত্রপাত। পৃথিবীর হাবল টেলিস্কোপ আমাদের জানাল যে ১৫ আলোকবর্ষ দূরে একটি নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার চারপাশে সৌরজগতের মতোই গ্রহ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে সেখানকার একটি গ্রহ এএম-৭২১ বি৬-এর মধ্যে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। ওটা খোঁজ করতেই বেরিয়েছে ওরা। ছয় দিন পার হয়ে গেল। আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা। সবার বুক ঢিবঢিব করছে। সৌরজগৎটির যতই কাছে যাচ্ছে আমাদের মহাকাশযান, ততই অশুভ কিছু একটা আমাদের ঘিরে ধরছিল। কিছুক্ষণ পর সুত্রো জানাল, মহামান্য অপূর্ব, একটি
স্পেসশিপ আমাদের পথরোধ করে দাঁড়িয়েছে। আমি শুয়েছিলাম। তড়াক করে লাফিয়ে উঠলাম। মহাকাশযানের সবার মধ্যে একটি অজানা আশঙ্কা ও কৌতূহল। কম্পিউটার জানাল, মানুষের মতো দেখতে সবুজ কিছু প্রাণী স্পেসশিপের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে। আমি অসম্ভব কৌতূহলী হয়ে উঠলাম। দলের মধ্যে সবাই জানে যে দিদি আর আমি খানিকটা বেপরোয়া। আমি
তক্ষুনি সুত্রোকে বললাম, 'সুত্রো, স্কাউটশিপকে তৈরি হতে বলো। আমি স্পেসশিপে যাব।' মহাকাশযানটি ধ্বংস হয়ে গেলেও বোধহয় কেউ অবাক হতো না-যতটা অবাক হলো তারা আমার কথায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি রওনা হলাম। আমার সঙ্গে রইল দিদি, সুজেল, তুষার ও তামিম।
আমার স্কাউটশিপটি স্পেসশিপের ওপর গিয়ে থামল। আর অবাক কাণ্ড! যেন চুম্বক দ্বারা স্পেসশিপের ভেতর ঢোকানো হলো আমাদের। সেখানে দেখলাম সবুজ রঙের এলিয়েন। ভাগ্যিস সুপার ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারপ্রিটারটি এনেছিলাম সঙ্গে। তাড়াতাড়ি চালু করে তাদের বললাম যে আমরা মানুষ। বন্ধুত্ব চাই, শান্তি চাই। এলিয়েনগুলো মোটামুটি শান্ত হয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলল। বলল তাদের সৃষ্টিতত্ত্ব। প্রায় ২০০ বিলিয়ন বছর আগে আকাশে নেবুলার মেঘ জমাট বেঁধে সৃষ্টি হয় এএম-৭২১। ধীরে ধীরে অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহও সৃষ্টি হয়। মজার ব্যাপার, তারাও অনুমান করেছিল যে দূর মহাকাশে প্রাণের স্পন্দন হয়েছে। তারপর যা হোক তারা আমাদের আমন্ত্রণ জানাল তাদের স্পেসশিপটি ঘুরে দেখার জন্য। যত দেখছি ততই অবাক হচ্ছি। সত্যিই কী অদ্ভুত! তাদের মহাকাশযানের গতিবেগ ১২০০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড! পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যেসব মহাজাগতিক রশ্মিকণা আঘাত হানে সেগুলো তারাই পাঠায়। উদ্দেশ্য, কোনো প্রাণী থাকলে জবাব দেবে। স্পেসশিপ ঘুরে দেখা শেষ। আরো অনেক কিছু জানলাম। এবার বিদায়ের পালা। তারা মহাকাশযানের স্কাউটশিপের কাছে আমাদের নিয়ে এলো। ধীরে ধীরে স্কাউটশিপের দরজা আটকে গেল। আমাদের স্পেসশিপ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল।
স্কাউটশিপ চলতে শুরু করল। আমি যে জানালার পাশে বসেছি সেদিক দিয়ে ১৫ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবী। আমার প্রিয় পৃথিবী। পৃথিবীর জন্য এত বড় খবর নিয়ে যাচ্ছি ভেবে আমার একটু নাচতে ইচ্ছা হলো।

Rasel islam, Tanusri roi, Badol hasan, Mr faruk, Sumaiya akter, Rohan Ahmed, Soneya akter and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum