সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 3
স্বর্ণমুদ্রা : 142
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-08
View user profile

ক্ষমা Empty ক্ষমা

Tue Jun 08, 2021 1:06 pm
জয়তুন জানে না তার সামনে কি অপেক্ষা করছে। তাছাড়া এই গহীন জঙ্গলে হঠাৎ সে কোথা থেকে এলো তাও মনে করতে পারছে না। তার শুধুই মনে আছে সে যখন কাজ সেরে গার্মেন্টসের ঠিক পেছনের গলিতে ঢুকেছে ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ জড়িয়ে ধরেছে। কেউ একজন রুমাল পেচিয়ে তার নাক চেপে ধরেছে। এর পরের ঘটনা আর কিছু মনে নেই তার।
ইদ্রিস নামক একটা ছেলে জয়তুনকে খুব বিরক্ত করতো। সকাল নেই বিকেল নেই যখন তখন তার পথরোধ করে দাঁড়াতো। তার কাছে প্রেমের প্রস্তাব দিব। লোলুপ দৃষ্টিভরা চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকতো। চোখে মুখে তার কামনা বাসনা খেলা করতো। ইদ্রিস যতই বিষয়টা লুকাতে চাইতো ততই তার লালসা জয়তনের চোখে নগ্ন হয়ে পরতো। জয়তুন বুঝত কিন্তু কখনো ধরা দিত না।
একদিন ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায় জয়তুনের। গার্মেন্টসের ভেতরে ম্যানেজারের সামনে প্রচন্ড সিনক্রিয়েট করে বসে সে। অন্য কর্মীরা ইদ্রিসের গায়ে হাত তুলতেও উদ্যত হয়। সবার সামনে বিশ্রীভাবে লাঞ্চিত হয় ইদ্রিস। চাকুরীটাও খুয়িয়ে বসে। সেদিন ইদ্রিস ঘাড় বাকিয়ে বাকিয়ে কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার আগে আঙ্গুল তুলে শাসিয়ে যায় দেখে নেবে বলে। কিন্তু সেদিনের ইদ্রিসকে আর কখনো দেখেনি জয়তুন। এরপর আর তাকে বিরক্ত করেনি ইদ্রিস। পথ রোধ করেও দাঁড়ায়নি। দলবল নিয়ে পেছুও নি। অনেকদিন কেটে গেছে তারপর। জয়তুন ধরেই নিয়েছিল ইদ্রিসের কাহিনীর সেখানেই শেষ। অন্তত আজকের দিন পর্যন্ত তার কাছে তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ইদ্রিস আসলে সবকিছু ভুলে যায়নি। কারন আজকের এই ঘটনার সাথে ইদ্রিস জরিত। সময়ের সাথে সাথে জয়তুনের মনে সন্দেহের দানা ক্রমশ বড় হতে থাকে। তার হাত দুটি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আসে। ইদ্রিসের চেহারাটি জয়তুনের চোখের সামনে ভেসে উঠে। এরপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জয়তুন। নিজেকে টেনে উঠানোর চেষ্টা করে সে। হঠাৎই তলপেটের নিচের দিকটায় এটা এক ধরনের ব্যথার অনুভূতি হয় তার। ভোতা এক ধরনের ব্যথা। ধীরে ধীরে সেটির তিব্রতা বাড়তে থাকে।

এক পা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই ব্যথার তীব্রতা অনুভব করে সে। এক পা সামনে বাড়ানোর চেষ্টা করতেই বুঝতে পারে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নয় সে। কিছু একটা ঘটেছে তার সাথে। খারাপ কিছু একটা। ভয়ঙ্কর রকম খারাপ কিছু। হঠাৎই কি ভেবে পায়জামার ভেতরে হাত দেয় সে। সাথে সাথেই অনুভব করে সেতসেতে কিছু একটা দিয়ে ভিজে গেছে তার হাত। হাতটি বাইরে আনার পর তার বুঝতে বাকি থাকে না সেটি আর কিছুই নয়, রক্ত! তার যোনিপথ পুরো রক্তে মাখামাখি। ধর্ষণ করা হয়েছে তাকে! পা দুটি মাটিতে ফাক করে নিচে তাকাতেই দেখতে পায় জমাট রক্ত। মাটি ভেসে গেছে। বিস্ময়ে হতভম্ব জয়তুনের চোখেমুখে ভর করেছে এক অজানা আতঙ্ক। বুকটা তার হঠাৎই ভারী হয়ে উঠতে শুরু করেছে। শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। তার সাথে কি ঘটেছে? কে বা কারা এ পৈশাচিকতা করেছে? তবে কি এটা সত্যি সত্যি ইদ্রিস?

Soneya akter, Somrat, Limon talukder, Nowrin talukdar, Nera akter, Fahad islam, Israyeel hossen and লেখাটি পছন্দ করেছে

avatar
নবাগত
নবাগত
Posts : 3
স্বর্ণমুদ্রা : 142
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-08
View user profile

ক্ষমা Empty Re: ক্ষমা

Tue Jun 08, 2021 2:25 pm
২|


চারপাশটা সুনসান নিরব। একটা কাকপক্ষীও কোথাও নেই। জনমানব শূন্য গহীন এক জঙ্গল। নিস্তব্ধ নীরবতা যেন দুই কান চেপে ধরেছে। জয়তুনের কাছে অস্বস্তি লাগছে। এই নিস্তব্ধতা বড় অপার্থিব লাগছে। উপরে গাছপালার ডালপালা আকাশটা ঢেকে রেখেছে। মৃদু চাঁদের আলো পাতা লতার ফাঁকফোকর দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে মাটিতে পড়ছে। এখন ঠিক কত রাত জানেনা জয়তুন? হঠাৎ তার সাথে থাকা ছোট্ট ওয়ালেটটির কথা মনে পড়ল তার। পার্সের মতো ছোট্ট ব্যাগটি কারুকাজ করা একটা দড়ির সাথে তার গলা থেকে ঝুলানো থাকে। জয়তুন তার পাঁজরে কোমরে হাত বুলালো তাৎক্ষণাৎ। কিন্তু ব্যাগটির কোনো হদিস নেই। আশেপাশে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল। অন্ধকারে যতদূর চোখ যায়, তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়ালো। আশেপাশে দশ বিশ হাতের সীমানায় কিছু নেই। ব্যাগে তার মোবাইল ফোন ছিল। ছিল কিছু খুচরো টাকা। এই মুহূর্তে ফোনটি যে তার ভীষণ জরুরী। জয়তুন কোনরকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নিকেকে সামনে-পিছনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। তলপেট থেকে নিচের অংশ যেন ছিঁড়ে পুড়ে যাচ্ছে। তীক্ষ্ণ ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে। মনে হল যোনিপথে পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিড়ে বেরিয়ে আসবে। এভাবে তার পক্ষের সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং বেশি নড়াচড়া করলে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে পারে।
হঠাৎ জয়তনের কাছে মনে হল তার চারপাশটা ঘুরে উঠছে। সে যেন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। চোখ চোখ চোখদুটি এবার বন্ধ হয়ে আসছে। শরীর অসার লাগছে। জিব্বা শুকিয়ে গেছে। বড্ড তৃষ্ণা পাচ্ছে। একফোঁটা জল পেলে খুব ভালো হতো। মুখ দিয়ে জল শব্দটি উচ্চারণ করতে চাচ্ছে কিন্তু জিভের সাথে তার তালু যেন লেগে যাচ্ছে।

দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো জয়তুন। কতক্ষন এভাবে পড়েছিল মনে করতে পারছে না। কিছু একটার শব্দে হঠাৎ ঘোর কাটল তার। কোন কিছুর গরগর শব্দ তার কানে ভেসে আসছে। কোন জন্তু জানোয়ার হয়তো। কিছুক্ষণ তার কানে ধাপ্পা লেগেছিল। তারপর যখন কিছু কিছু বুঝতে শুরু করলো, তার মনে হল তার পায়ের দিকটা কেউ খাবলে ধরেছে। চাঁদের আবছা আলোয় অস্পষ্ট ছায়াটা দেখতে পেল জয়তুন। শিয়াল-কুকুরের ন্যায় কয়েকটি জন্তু তার চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে। তার ছেঁড়া কাপড়ের এপাশ ওপাশ থেকে টেনে ধরেছে। তাকে নিয়ে এক ধরনের টানাহ্যাঁচড়া চলছে। হিংস্র বর্বরতায় ভরা ক্ষুধার্থ এক ধরনের অস্থিরতায় মগ্ন সেগুলি। ঘড়ঘড় শব্দ তুলে এপাশ ওপাশ থেকে তাঁকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাওয়ার চেষ্টা করছে।
হঠাৎই জয়তুনের মনে হলো তার বাহুতে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে। যেন কেউ সেখান থেকেই মাংস খুবলে নিয়ে গেছে। জয়তুনের ডান হাতের আঙ্গুলের দিকটায় প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। হাতের অনুভূতি টের পাওয়া যাচ্ছে না। যেন কেউ আঙ্গুলগুলি খেয়ে ফেলেছে। এবার যেন চরম বাস্তবতার অনুভূতি হল জয়তুনের। গহীন এই জঙ্গলে তার শক্তিহীন নিথর দেহটা ভক্ষণ এর শিকার হতে যাচ্ছে। জঙ্গলের অভুক্ত শেয়ালগুলি তাকে ছিড়েখুঁড়ে খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেয়ালের মতো সাধারন একটা জন্তুকেও বড় রাক্ষুসে লাগছে।

জয়তুনের শরীরে একফোটা শক্তি নেই আর। সে বুঝতে পারল কিনা যে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে সে। বোঝার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে। এখন যেন আর ব্যথাটাও টের পাচ্ছে না। আসছে না কোনো বাধা দেয়ার প্রচেষ্টাও। নীরবে মেনে নিয়েছে সব। অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে তার শরীর, মন। চোখের পাতা দুটি ভারী হয়ে আসছে। একটা ঘুম দিতে ইচ্ছা করছে। লম্বা বড় একটা ঘুম। যখন সে ঘুম থেকে উঠবে তখন দেখবে একটা বড় বাগানে। সেখানে শুয়ে আছে। চারপাশ ভর্তি ফুলেল গুল্ম লতাপাতা। সামনে আঙ্গুর থোকা থোকা, নিচে পড়ে আছে সারি সারি আপেল। ফুলের মিষ্টি গন্ধে তার নাক ভরে যাচ্ছে। উপরে আকাশটা নীল। সাদা সাদা মেঘে ভর্তি। ঘুমের ঘোরে এসব কিছু তার মনের ভেতরে চলছিল যখন, ঠিক তখনই প্রচন্ড আলোর ঝলকানিতে চোখদুটি ঝলসে গেল তার।
কেউ বা কিছু একটা তারই দিকে এগিয়ে আসছে আসছে। ঝকঝকে আলো ভর্তি হয়তোবা কোন পক্ষীরাজ ঘোড়ার গাড়ি। পরমুহূর্তেই চোখ বন্ধ হয়ে এলো জয়তুনের। কানের কাছে অস্পষ্ট দুটি কথা ভাসে আসলো দূর থেকে। যেন চারপাশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
"ওর সাথে আমরা যা করছি তাতে ফাসি হইবার পারে আমাগো।" একটি অচেনা কন্ঠ চিৎকার করে বলে উঠল।
"আমি জানি কিন্তু আমি তারে এইভাবে ফেলে রেখে যাইতে পারুম না।"
"আমাগো কাছে আর কোন উপায় নাই, ইদ্রিস। ও বাইচা গেলে আমরা শেষ হইয়া যাব।"

আর চোখ মেলে রাখতে পারলোনা জয়তুন। ঘুমের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেল।

তারপর সেই অপরূপ সৌন্দর্যের বাগানের মতই এক ধবধবে সাদা বিছানায় নিজেকে আবিস্কার করলো জয়তুন।

হাস্পাতালের বিছানায় শুয়ে আছে সে। ডান হাতের বাহু থেকে কনুই পর্যন্ত ব্যান্ডেজ করা। নিচে বাম পা ব্যান্ডেজ মোড়ানো। বাম হাতে একটা চ্যানেল করা। ফোটায় ফোটায় রক্ত যাচ্ছে।
চকচকে সূর্যের আলো জানালা দিয়ে ধাঁধিয়ে দিচ্ছে তার চোখ। ঠিক তার পায়ের কাছে একটি চেয়ারে বসা রয়েছেন এক ব্যক্তি। পুলিশের পোশাক পরিহিত, মোটাসোটা লোকটির মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। হুট করেই লোকটি জয়তনের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে চাইল। জয়তুন চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। একটু কেশে লোকটু জয়তুনের চোখের দিকে তাকিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করল, কিভাবে ঘটেছে? কারা করেছে এই কাজ? কিছু মনে আছে তোমার?
জয়তুন এক মুহূর্তের জন্য মাথা নিচু করে চুপ করে রইল। তারপর ভাবলেশহীনভাবে তার মাথ মাথাটি একবার ডানে-বামে নাড়লো।
সামনে বসা পুলিশ সদস্যদের মুখ থেকে হতাশার একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল।

সমাপ্ত।

Soneya akter, Somrat, Limon talukder, Sofikul alom, Nowrin talukdar, Nera akter, Fahad islam and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum