সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
avatar
ধুমকেতু
ধুমকেতু
Posts : 12
স্বর্ণমুদ্রা : 485
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-06-16
View user profile

বাংলাদেশি মধ্যবিত্তদের শিক্ষার সমস্যা Empty বাংলাদেশি মধ্যবিত্তদের শিক্ষার সমস্যা

Tue Aug 17, 2021 10:19 am
"আম্মু, আমাকে আজ একটা খেলনা গান কিনে দাও না প্লিজ!" "ধুর এসব দে আজকাল কেউ খেলে নাকি সন্ত্রাসী হয়ে যাবি তো বড় হয়েই!" "কিন্তু আম্মু মারুফকে তো ওর মামা দুটা দামি দামি খেলনা পিস্তল সিঙ্গাপুর থেকে এনে দিয়েছে।" " দেখিস একদিন মারুফ পুলিশ একদিন ক্রসফায়ার করে মারবে।"
এই ধরনের ভুল ধারণা নিয়ে আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশু কিশোররা বেড়ে ওঠে। পড়া মানসিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত হয়। কি, আমাদের কি বিশ্বাস হচ্ছে না? ধরুন একটা খেলনা পিস্তল, সেটা থাকলে হয়তো আপনি নিজেকে হিরো ভাবতেন, আপনার টার্গেট ভালো হতো। হয়তোবা আপনি একজন অলিম্পিক গেমস সুটার হিসেবে প্রথম হয়ে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু এসব বাজে চিন্তা আশপাশের কোনো মহিলার কাছ থেকে আপনার আম্মুর শুনে আপনাকে পিস্তল কিনে দেয়নি এটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। বাঙালির অন্যতম একটা সমস্যা না জেনে মন্তব্য করা এবং গল্প বাড়ানোর জন্য যত খারাপ জিনিস আছে জেনে নেয়া, এবং খারাপ জিনিসের অভাব পড়লে ভালো জিনিসকে নেগেটিভ করে আপনাকে হিংস্র করে দেয়া যেন প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনদের আসল কাজ। আমাদের অনেক মা-বাবা আছেন যারা বিশ্বাস করবেন না যে ধ্বনি ধ্বনি বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব অনেক গরীব এবং সবচেয়ে গাধা ছাত্র থেকেই তারা এই পর্যায়ে উঠে এসেছে। তারা আপনাদের মেরে ধরে টিভি দেখা বন্ধ করে ও গেম খেলা বন্ধ করে সারাদিন বইয়ের মধ্যে মুখ চেপে রাখবে। প্রথম-দশম এর ভিতর না থাকলে ফেমে আপনার শরীরে আর দশটা দাগ বানিয়ে দিবে এবং একসময় বলবে এটা তোর ভালোর জন্যই করেছি। কিন্তু হ্যাঁ শেষ বয়সে যখন একসাথে খেলে না হায় আফসোস আপনি প্রথম আনুসারে মুখস্থ বিদ্যা অর্জন করতে করতে আপনি নিজে থেকে কিছু তৈরি করতে পারেন না ,আপনার মধ্যে কোন সৃজনশীলতা নেই। তখন বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঝাঁট দিতে গিয়েও আপনার চোখ দিয়ে পানি পড়বে। হ্যাঁ আপনি এক সময় চেয়েছিলাম কখনো নকল না করে কারোটা না দেখে একদম হালাল উপায়ে পরীক্ষায় পাশ করার জন্য কিন্তু শেষমেশ দেখলে আপনার মা যাদের কে ফলো করে সেই ছেলে মেয়েরাই নকল করে পাস করে। যেখানে আপনাকে বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে সারাদিন রাখা হয় কোন ইনডোর বা আউটডোর গেমস খেলতে নিষেধ করা হয় ঠিকই দেখবেন আপনার মা যাদের ফলো করে আপনাকে এসব করতে বাধ্য করছে তারাই দিনের পাঁচ-ছয় ঘণ্টা শুধু গেম খেলাধুলার উপর কাটিয়ে দেয় বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ করে এবং মাঝে মাঝে সাধারণ জ্ঞানের চর্চা করে। অনেক চেষ্টা করে আপনি প্রথম 10 জনের মেধা তালিকা অর্জন করতে পেরেছেন। একটা ইঁদুরের খাওয়া রেজাল্ট কার্ড ছাড়া আর কোন প্রমাণ আপনার বাসায় থাকবে না এটা আপনার চাকরি-বাকরি তে কেউ দেখবে না। হয়তো বছর পাঁচেক অনেক ঘোরাঘুরির পর বাবার শেষ সম্বল দাদার ছোট্ট জমিটা বিক্রি করে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে একটা সরকারে যোগ দিলেন কিন্তু অবাক হওয়ার মত বিষয় আপনার মায়ের কথা আপনি যাকে তাচ্ছিল্য করতেন সেই দুষ্ট পড়াশোনা না করা ছেলেটা আপনার বস। আপনি অবাক হলেন কি করে সম্ভব এ আমার আগে কিভাবে গেল ঠিক তখনই সে উত্তর দিবে সে আপনার মতো বয়ে মুখ গুঁজে থাকত না তার মা কখনও এ ধরনের চাপ দিত না সে প্রকৃত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত সে মানুষের মন বুঝতে চেষ্টা করত মানুষকে খুশি করা বানানো তার পক্ষে অনেক সহজ এবং তার অনেক আত্মীয়স্বজন ছিল যারা তাকে ভালভাবে গাইড করত। আর আপনি গিয়ে দেখলেন যে প্রথম ছিল শেয়ার দেশে থাকে না বরং সে বিদেশের একজন বিলিয়নার হিসেবে রয়েছে এবং আপনার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আপনি মধ্যবিত্ত ছিলেন আপনার দাদু দরিদ্র ছিল, বাবা মধ্যবিত্ত, আপনিও মধ্যবিত্ত রয়ে গেলেন। আপনি ভর্তি হতে চেয়েছেন,একটা আর্ট স্কুলে। কিন্তু পাশের বাসার আন্টি আপনার মাকে নিষেধ করে গেলেন কারণ আপনি যদি সেখানে পড়েন তার ভাষ্যমতে আপনি নাস্তিক হয়ে যাবেন। কিন্তু আপনার পরহেজ গার বন্ধু সেখানে পড়ে এখন মসজিদের টাইলস এর ডিজাইন এবং আরবি ক্যালিগ্রাফি করে, ঝাড়বাতির নকশা এবং জায়নামাজের ,কোরআন শরীফের কভার ডিজাইন করে মাসে 10 লাখের মতো ইনকাম করছে। কিন্তু আপনি সবকিছুতেই অযোগ্য হয়ে গেলেন । আপনার স্বপ্ন তো থাকবেই না ,আপনি শুধু সরকারি কেরানি হয়েছে অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেন। পারলে নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ফাইল সরানোর জন্য কিছু লোকের কাছ থেকে নজর এড়িয়ে দু একশ টাকা ঘুষ নেন। ডানপাশের সিঁথি করে খাঁটি সরিষার তেল নিয়ে গলায় ও বগলে একটু পাউডার মেখে ইউনিফর্ম পরিধান করে আপনার কর্ম ক্ষেত্রে যাতায়াত করেন। স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল আপনার আশেপাশের সেই মধ্যবিত্ত প্রতিবেশীগণ। কিন্তু আপনি আরো বেশি অবাক হবেন সেই প্রতিবেশি ছেলেমেয়েগুলো তাদের মামা-চাচার দের হাত ধরে এখন বড় বড় ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী হয়েছে যাদের বেতন কম করে এক লাখ হবে। এখন আপনি নিজে বাধ্য হবেন আপনার বৃদ্ধ মা-বাবা থেকে দূরে থাকতে। কারণ আপনার বেতন অতি সামান্য স্ত্রী ও সন্তান সন্ততি নিয়ে যতটুকু খরচ তার সাথে বাবা-মাকে রাখলে সম্ভব হচ্ছে না। বাবার পেনশনের টাকা দিয়ে বাবা-মা দেশের বাড়ি কোন একটি ছোট্ট বাসা ভাড়া নিয়ে একাকী জীবন কাটাচ্ছে। কারণ আপনার দাদার জমি আপনার ঘুষের কাজে ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছিল আপনার বাবা কিন্তু প্রতিদানে তারা এটাই পেল। দোস্ত আপনাকে দেয়া হচ্ছে, কেমন ছেলে আপনি। ভাগ্যের নির্মম ইতিহাস শুধু আপনি জানেন। আপনার বাবা কোন কারণে বিদেশ গিয়ে ছিল আপনার জন্য তখন একটা ল্যাপটপ কিনে আনার কথা ছিল। কিন্তু সেই একই কথা, পাশের বাসার আন্টি বলেছিল ছেলে গেম খেলে নষ্ট হয়ে যাবে এবং কম্পিউটার আগুন ধরে এক বাচ্চা মারা গিয়েছে। এখন আপনি কম্পিউটারে দেখলেই ভয় পান কারণ আপনাকে আপনার মা ধারণা দিয়েছিল কম্পিউটারের কোন করবি না কারো কারন একটা কম্পিউটারের দাম অনেক আর তোর বাবা সেই সামর্থ্য নেই ,বন্ধুর কম্পিউটার নষ্ট হলে সে খেসারত তোর বাবা দিতে পারবে না। আপনাকে পড়াশোনার ক্ষেত্রে গাধা হিসেবে সম্বোধন করা হতো,, কোন ভাল ছাত্রের মা-বাবা তাদের ছেলে মেয়ে কি আপনার সাথে কখনো মিশতে দিতো না, খেলতে দিত না। তাদের ধারণা আপনার মস্তিষ্ক তাদের ছেলের মাথায় প্রবেশ করবে। বর্তমানে হয়তো তারা উচ্চবিত্ত আপনাকে তারা চিনবে না। তাই সতর্ক হয়ে যান দয়া করে এসব পাশের বাসার আন্টি অর দূরসম্পর্কের আত্মীয় থাকে সর্বদা দূরে থাকবেন। এসব ক্লাস 5 বা 6 মাস লোকদের কাছ থেকে কোন শোনা কথা থেকে শিক্ষা নিবেন না। যারা চরিত্র পড়াশোনা দিয়ে বিচার করতে চায়, অন্তত তাদের কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখবেন। এটা যতটা ভয়ংকর করোনা রোগ ওদের থেকে একধাপ পিছিয়ে হয়তো কমপক্ষে।

Shihabun Sakib, jannatul riya, Bapi mondol, Anamika oyshee, Abir islam nayem, Anib hossain, Sheati akter and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum