সাদা কাগজ
Would you like to react to this message? Create an account in a few clicks or log in to continue.
Go down
Omore Faruk Raul
নবাগত
নবাগত
Posts : 5
স্বর্ণমুদ্রা : 298
মর্যাদা : 10
Join date : 2021-05-31
Age : 20
Location : Dhaka
View user profilehttps://facebook.com/jujuthelucifer

ডুবো মগজের ঝোল এবং একটি রাতের গল্প  Empty ডুবো মগজের ঝোল এবং একটি রাতের গল্প

Fri Aug 27, 2021 1:08 am
১ম পরিচ্ছেদঃ
খাড়া পাহাড়ের পার ঘেঁষা কিল্কিনিতে মধ্যরাতের বাতাস বড্ড কনকনে । নিজের ছোট ঘরে বসে ফাদার ফ্রেড হাতে ঝোলানো সোনালী ক্রুশে বারবার চুমু খাচ্ছেন । ভারী কোটের পকেট থেকে বের হওয়া হাত ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে । দৃষ্টি তার নিবন্ধ অদূরে । উত্তরের খোলা জানালা দিয়ে হাড্ডিসার বুড়োর নজর ক্লিচেল প্রাসাদের চূড়ায় । আজকের রাত ঘুমানোর রাত নয় । যুগ যুগ ধরে কিল্কিনির ফাদারেরা এই রাতে ঘুমাতে পারেন না কিংবা বলা চলে ইচ্ছে করে ঘুমান না । অবসন্ন চোখের পাতা বারবার লেগে আসে , ঠোঁট অসাড় হয়ে যায় । তবু অজানা এক আশংকায় আধবোজা চোখ দপ করে জ্বলে ওঠে । ফাদারের ঢের বয়স হয়েছে । সারারাত জেগে থাকা শরীরে কুলায় না । তবু জেগে থাকা একরকম বাধ্যতা । ভগ্ন শরীরে জোর নেই তবে তীক্ষ্ণ চোখের জ্যোতি কোন অংশে কমেনি । ভাগ্যক্রমে কিল্কিনিতে আজকে পূর্ণিমা তিথি । বাহিরের ঝলসানো চাঁদের আলোয় ফাদারের জানালা থেকে ক্লিচেল প্রাসাদ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে । বহু সময় যাবত তাকিয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলেন ফাদার ফ্রেড । ধুঁকতে থাকা বুড়োর চোখ হঠাৎ সচকিত হয়ে উঠলো ।ভরাট চাঁদের আলোয় ফাদার অবশেষে তাকে দেখতে পেলেন । প্রাসাদের চুড়ার খোলা বারান্দায় সে এসে দাঁড়িয়েছে , সে এসেছে ! তার মানে বহু বছর পর আবারো কিল্কিনিতে সেই পাপের পুনরাবৃত্তি ঘটবে ! ফাদার ফ্রেড বুকে ক্রুশ জড়িয়ে ধরে কম্পিত স্বরে বিড়বিড় করতে লাগলেন - রক্ষা করো হে ঈশ্বর ! রক্ষা করো যীশু !
২য় পরিচ্ছেদঃ
কিল্কিনির রাত বড়ই নির্জীব । এখানে সন্ধ্যার পর থেকেই আস্তে আস্তে বাড়িগুলোর বাতি নিভতে শুরু করে । অযথা তেল না পুড়িয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয় সবাই । একে তো শীতের রাত , তার উপর কোলাহলহীন পরিবেশ । নববিবাহিত রাও তাদের উষ্ণ প্রেমের খেলা শেষ করে ঘুমিয়ে গেছে বোধ করি । কিল্কিনিকে কোন অংশে এখন মৃত্যুপুরী থেকে কম মনে হচ্ছে না । খেঁটে খাওয়া শ্রেণীর মানুষের দিন শুরু হয় একেবারে সকালে , তাই তারা চায় পুরো রাত ঘুমিয়ে কাটাতে । এদের মাঝে কিছু আবার রাত কাটায় মদে বিভোর হয়ে কিল্কিনির একমাত্র সরাইখানায় । উইলিয়াম কাউচ ; সরাইখানার মালিক । এই মুহূর্তে কাউচ বসে আছেন নিজের সরাইখানার দোতলায় । চোখে ঘুম নেই , সেও আজকে ফাদার ফ্রেড এর মতন নির্ঘুম দোটানায় ভুগছেন । কিছুক্ষণ আগেই শেষ কাস্টোমার বিদায় করে দিয়েছেন । অনেক রাত পর্যন্ত জাগে কাউচের সরাইখানা । গরম কফি আর লাল মদের বাসনায় টেবিলগুলো ভরাট থাকে । ভাজা চিংড়ি আর শুকনো গোস্তের চালান চলে প্লেটের পর প্লেট । ব্যবসা মন্দ নয় , তবুও কাউচকে দেখা যায় শুন্য চোখে কাউন্টারে বসে থাকতে । বংশানুক্রমে কাউচরা কসাই হলেও পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়েছেন বহু আগে । অল্প বয়সে প্রেমে পড়েছিলেন এই সরাইখানার পূর্ব মালিকের মেয়ের । অতিরিক্ত হাসির স্বভাব ছিল মেয়েটার । কাউচ রাতে যখন আসতেন , মেয়েটার ঝিলমিল করা হাসি দেখে গলে নুয়ে পড়ে যেতেন প্রায় । প্রথম প্রথম পাত্তা না পেলেও একসময় তার সাথেই প্রণয় ,এরপর বিয়ে । প্রানপ্রিয় স্ত্রীর আহ্বানে পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে সরাইখানার দায়িত্ব নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি । উলটো শ্বশুরের মৃত্যুর পর সরাইখানা নিজেদের মতো করে সাজিয়ে পুরোদমে চালাতে শুরু করেন কাউচ । নিজেদের প্রচেষ্টায় সরাইখানা বড় হয় , একটুখানি ফসলি জমিও কিনে ফেলেন দুজনে । কিন্তু ওই যে বেশি সুখ কপালে সয় না । কাউচের দশাও হয়েছিল অমন । স্ত্রীর অকাল প্রয়াণ তাকে চুপ করে দেয় । হুটহাট করে প্রায়ই মনে পড়ে স্ত্রীর খিলখিল হাসি ।
কাউচের ডাক পড়েছে ক্লিচেল প্রাসাদে । তাকে বিশেষ তলব করা হয়েছে মধ্যরাতে । তাই আজ আগে আগেই সরাইখানা বন্ধ করে দেয় কাউচ । বহু বছর পর আজকে আবারো পুরনো পেশার প্রদর্শন করতে হবে তাকে । সদাস্থির কাউচের চোখদুটো আজকে হঠাৎ ভয়ে অস্থির । কোনভাবেই মনকে শান্ত করতে পারছেন না । অশান্ত মনকে শান্ত করতে কাউচ বাইবেল খুলে বসলেন । পাতা উল্টিয়ে কিছুক্ষণ বাইবেলে ডুবে গেলেন ।
৩য় পরিচ্ছেদঃ
ক্লিচেল প্রাসাদের চুড়ার বারান্দায় কেউ একজন হাঁটছে । একজন নয় , দু‘জন ; বর্তমান আর্ল আর তার প্রধান পরামর্শক । হেনরি ডি মনটার্গিস ; দ্বাদশ আর্ল অব ক্লিচেল শয্যা ত্যাগ করে শীতের রাতে বারান্দায় দ্রুত পায়চারী করছেন । পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে পরামর্শক ফিওদর । পায়চারী করতে করতে মুখ থেকে কতক ধোঁয়া বের করে শুধোলেন আর্ল , “ কাজ কখন শুরু হবে ? “ “ কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে মহামান্য প্রভু । আপনি ভিতরে গিয়ে বসতে পারেন নিশ্চিন্তে । “ “ নিশ্চিন্তে !?” খেঁকিয়ে উঠলেন আর্ল । “ যা করবার আমার স্ত্রী জেগে উঠবার আগেই করে ফেলতে হবে । কোনভাবেই যেন ক্লিচেল প্রাসাদের রীতি ভঙ্গ হওয়া চলবে না । “ ক্ষমা করুন প্রভু , আমি দ্রুত কাজ শুরু করছি ,” ছুটে বেড়িয়ে গেলেন প্রধান পরামর্শক । কাউচকে দরকার জলদি - আনমনে বিড়বিড় করতে করতে ছুটে গেলেন প্রাসাদ গেটের কাছে ।
গায়ে একটা ওভারকোট চাপিয়ে আর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে প্রাসাদ অভিমুখে হাঁটছে উইলিয়াম কাউচ । হাতে পুরনো কসাইখানার ব্যাগ । ছুরি চাপাতি গুলো জং ধরে গেছে । সকালে নতুন কিনে আনতে হয়েছে । সরাইখানা থেকে বের হয়ে সোজা রাস্তায় খানিক হেঁটে বার দুয়েক মোড় ঘুরলেন কাউচ । যতই সামনে এগুচ্ছেন , আস্তে আস্তে রাস্তা প্রশস্ত হতে শুরু করেছে । দু’ধারে সারি সারি গাছের মাঝে দিয়ে চলার রাস্তা । মধ্যরাতের গ্রামের রাস্তায় হাঁটতে মোটেও ভয় লাগছে না কাউচের , বরঞ্চ অদ্ভুদ এক ঘোরে আচ্ছন্ন তার মস্তিষ্ক । মায়াজাল কিংবা অজানা মোহে আবিষ্ট তার চেতনা । রাস্তা হঠাৎ খাড়া হতে শুরু করলো । সামনে সমতল মালভূমির উপর দাঁড়িয়ে গেলেন । ভরা চাঁদের আলোয় নির্লজ্জভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রকাণ্ড ক্লিচেল প্রাসাদ । উঁচু বুরুজ আর বিশাল দেয়ালের বাইরে থেকে লম্বা নরমান আমলের প্রাসাদ স্পষ্ট দেখা যায় । সরু জানালায় ঠাঁসা পুরো প্রাসাদ । দুই পাশে ছড়ানো প্রাসাদের ঠিক মাঝখানটায় চুড়া পর্যন্ত লম্বা হয়ে আছে । চুড়ার ঠিক নিচে লম্বা খোলা বারান্দা । সেখানে দাঁড়ালে সম্ভবত পুরো কিল্কিনি এক নজরে ঠাহর করা যায় । তবে এই কথার সত্যতা স্বয়ং আর্ল ভালো জানেন । প্রাসাদের বাইরের আইভি লতায় জড়ানো কাঠের প্রকাণ্ড একটি ঝুলন্ত সেতু পার করে এগোতে লাগলেন কাউচ । সেতুর নিচে অন্ধকার পরিখা । এতোটাই অন্ধকার যে , এই ভরা পূর্ণিমার আলোতেও তার ছিটেফোঁটা উন্মুক্ত হয়নি । সেতুর অপর প্রান্তে দুজন রক্ষী সহ অপেক্ষা করছিলেন আর্ল এর পরামর্শক ফিওদর ।
৪র্থ পরিচ্ছেদঃ
-বাচ্চাটা কোথায় ?
-বিশেষ কক্ষে রাখা আছে ।
-আর মহামান্য আর্ল ?
-তিনি বারান্দায় অপেক্ষা করছেন । কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিশ্চিন্ত হবেন ।
-শিশুটির মা কোন ঝামেলা করবেন না তো ?
-সে চিন্তা আপনাকে করতে হবে না । তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে । আপনার কাজ শেষ হলে আপনাকে আপনার পুরষ্কার বুঝিয়ে দেয়া হবে । তবে সাবধান , আপনার পূর্বপুরুষরা যেভাবে ক্লিচেল প্রাসাদের আর্ল দের বাধ্য হয়ে ছিলেন , আপনিও সেভাবেই থাকবেন ।
ফিওদর উইলিয়াম কাউচকে নিয়ে চললেন মাটির নিচে । বিশেষ গুপ্ত সিঁড়ি মাড়িয়ে নিচে নামা লাগে । প্রায় বিশ ধাপ সিঁড়ি পেরিয়ে নিচে পথ চলতে লাগলেন কাউচ আর পরামর্শক ফিওদর । পায়ের নিচে ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে । অনেকগুলো ছোট ছোট ঘর ; কয়েকটা ঘরের বাইরে কিছু মশাল জ্বলছে । খুব সম্ভবত এসব ঘরে কিছু কয়েদীদের রাখা হয় যারা গুরুপাপ এ দণ্ডিত । না যেন কত কয়েদী মরে পচে এসব ঘরে তাদের কঙ্কাল অবশিষ্ট রয়েছে । কয়েকটা কানা গলি পেরিয়ে অবশেষে এক প্রান্তে এসে পৌঁছাল দুজনে । শেষ মাথায় একটা বড় কক্ষ । লোহার দরজার বাইরে থেকে ফিওদর টোকা দিতেই ভিতর থেকে দরজা খুলে গেলো । ভিতরে দুজন রক্ষী , পুরো ঘরে আমরা বহিরাগত দুইজন বাদেও আরেকটা প্রাণী আছে । ঘরের মাঝে পাতা খাটে শুয়ানো একটা শিশু ! দেবদূতের মতন তার চেহারা , স্নিগ্ধ কোমল । চোখে তার পুরো জগতের প্রতি অসীম কৌতূহল । উইলিয়াম কাউচ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলেন যতক্ষণ না ফিওদর কাঁধে হাট রেখে বললেন - দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে । মহামান্য আর্ল অপেক্ষা করছেন আমাদের ।
৫ম পরিচ্ছেদঃ
১১ শতকে রেমন ডি মনটার্গিস কাল্কিনির ক্লিচেল প্রাসাদ তৈরি করেন । তার হাত ধরে উত্থান ঘটে এই অঞ্চলে প্রতাপশালী ক্লিচেলদের । অতিমাত্রায় সাহসী আর ক্ষিপ্র ক্লিচেলদের শান শওকত এর সব নির্ভর করে তাদের তলোয়ারের উপরে । কিন্তু একের পর এক যুদ্ধে ক্লিচেল দের হারের পর তাদের প্রতাপ আর ক্ষমতা কমতে শুরু করে । প্রচণ্ড অসহায় হয়ে পড়া প্রথম আর্ল রেমন নিজের গদি শক্ত করার উপায় খুঁজতে থাকেন । এমতাবস্থায় জন্ম হয় তার প্রথম সন্তান ; মেয়ে । কোন এক বিচিত্র কারণে আর্ল এর সন্তানের জন্মের খবর কোথাও প্রচার হয়নি । আর্ল তখন হন্য হয়ে রয়েছেন আসন্ন যুদ্ধে নিজের রাজত্ব বাঁচাবার জন্য । নবজাত শিশুর বয়স তখন প্রায় তিন মাস । রেমন ডি মনটার্গিস সিদ্ধান্ত নিলেন ভয়াবহ এক কাজ করবার । আফ্রিকার কোন এক আদিবাসীদের কথা শুনেছিলেন তিনি । রাজত্বের প্রধান ব্যক্তির যদি প্রথম সন্তান মেয়ে জন্ম নেয় তাহলে তাকে মেয়ে মেরে ফেলা হয় , আর ছেলে জন্ম নিলে তাকে সাদরে জন্ম নেয়া হয় । তবে এক্ষেত্রে আজব নিয়ম হল প্রথম সন্তান হিসেবে মেয়ে জন্ম নিলে তাকে মেরে ফেলতে হবে , এরপরের সন্তান মেয়ে হলে তাকে আত্মাহুতি দিতে হবে না । এটিকে তারা যুদ্ধ জয়ের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখত । আর্ল রেমন ডি মনটার্গিস এই প্রথাকে মেনে নেন নিজেদের জন্য । সিদ্ধান্ত নেন রাজত্ব আগে ,এরকম সন্তান আসবে আর যাবে । খুব গোপনীয়ভাবে তিন মাসের শিশুকে হত্যা করা হয় এক মধ্যরাতে । এজন্য তিনি আগেই তার সহধর্মিণীকে বন্দি করে মাটির নিচে অজানা কোন কক্ষে চিরতরে বন্দি করে দেন । আর নির্দিষ্ট সময়ে শরীর থেকে নবজাতকের ধর আলাদা করে ফেলা হয় ।সেই অবান্তর প্রথার কারণেই হোক কিংবা ভাগ্যের কারণেই হোক , আর্ল রেমন তার পরবর্তী সব যুদ্ধে জয় লাভ করেন । ক্লিচেল প্রাসাদে এক প্রকার রীতি তৈরি হয়ে যায় প্রথম সন্তান মেয়ে হলে তাকে মেরে ফেল তিন মাস বয়সের আগে । পরবর্তী সকল আর্ল সেই রীতি মেনে চলেন , নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ক্লিচেলরা একদম স্থির ।
বহুবছর পর আবারো কিল্কিনিতে এক মেয়ে শিশুর প্রাণ কেড়ে নেয়া হবে । আবারো হবে সেই ভয়ংকর পাপ ।
উইলিয়াম কাউচ তার চাপাতি নিয়ে প্রস্তুত । মেয়েটিকে একটি টেবিলে শোয়ানো হয়েছে । দেবশিশুটি কাউচ এর দিকে হাসি মুখে চেয়ে আছে আর হাত পা নাড়ানাড়ি করছে । কাউচের হাত পা কাঁপছে । মানুষ মারার কথা সে জীবনে কল্পনাও করেনি , তার উপরে এ এক অবুঝ শিশু । কাউচ এর স্ত্রী এরকম একটি মেয়ে চেয়েছিল , খুব করে গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করতো প্রতি রবিবারে । কিন্তু ঈশ্বর নারাজ ছিলেন , সন্তান প্রসবের সময় বাচ্চা আর তার স্ত্রী উভয়ই হারিয়ে গেলেন । কাউচ এর চোখ পানিতে টলমল করছে । না চাইতেও তাকে এই কাজ করতে হচ্ছে । দেরি হচ্ছে বলে আর্ল এর পরামর্শক তাগাদা দিলেন - “ শেষ করো , প্রভুর হুকুম । “
উইলিয়াম কাউচ চোখ বন্ধ করে ঘাড় বরাবর কোপ দিলেন একটা । ঘেচাত করে শব্দ হল খালি , কতকখানি রক্ত ছলাত করে কাউচ এর মুখে ছিটকে পড়লো ! তারপর শুধু নীরবতা …
৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদঃ
উইলিয়াম কাউচ রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছেন । কাঁপা শরীরে হাঁটতে পারছেন না , বারবার হোঁচট খাচ্ছেন । তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না । মনে হচ্ছে ঈশ্বর আর বিবেক মিলে তাকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাচ্ছে । যন্ত্রণায় ভোগা কাউচ এর মাথায় ঘুরছে বাইবেলের লাইন - ( ২ টিমোথি ১ঃ৭ - ঈশ্বর আমাদের ভীরুতার আত্মা দেননি । ঈশ্বর আমাদের পরাক্রম , প্রেম ও আত্মসংযমের আত্মা দিয়েছেন । )
........................
আর্ল মধ্যরাতের ভোজে বসেছেন । একটা সোনার পাত্রে গরম গরম সুপ আর শুকনো শক্ত রুটি । তিনি সফল, ক্লিচেল প্রাসাদের রীতি পালনে সফল হয়েছেন কিল্কিনির মহামান্য প্রভু । সামনে থাকা সুপের বাটির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন - ইতিহাস সম্পূর্ণ কথা সবসময় বলে না । কিছু কথা ইতিহাস এড়িয়ে যায় এটাই ইতিহাসের নিয়ম । ক্লিচেল প্রাসাদের আর্লরা শুধু তাদের প্রথম মেয়ে সন্তান হত্যা করেন না বরং সেই সন্তানের মগজ দিয়ে বানানো সুপ খেয়ে থাকেন ! ক্লিচেল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা আর্ল রেমন ডি মনটার্গিস এর হাতে যার উৎপত্তি , দ্বাদশ উত্তরসূরি হিসেবে সেই কর্তব্য বর্তমান আর্ল আজ পালন করছেন । নিজ ঔরসজাত সন্তানের মগজের সুপ শেষ করে আর্ল তৃপ্তির একটা ঢেঁকুর তুললেন !

Sojoy das, Sohani israt, Humayara ayesha, Mohedul islam, Rafi Rahman, Utsho Boni arjo, angel fiha and লেখাটি পছন্দ করেছে

Back to top
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum